কিভাবে নিজের নতুন অনলাইন বিজনেস প্রচার করবেন।

অনলাইন বিজনেস

আবার আরেকটি টিউটোরিয়াল নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হলাম। আজকে আমাদের আলোচিত বিষয়ে থাকবে কিভাবে নিজের নতুন অনলাইন বিজনেস প্রচার করবেন? দেরি না করে চলুন শুরু করি।


শুরুর কথা:


বর্তমানে বাস্তব বিজনেসের থেকে অনলাইন বিজনেস বেশি লাভজনক। অনলাইনে বহুল বিজনেস গড়ে উঠেছে এবং এর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেহেতু দিন দিন অনলাইন বিজনেসের সংখ্যা বেড়েই চলেছে তাই কম্পিটিশন অনেক বেশি।

 এরকম অবস্থায় নতুন বিজনেস করলে কাস্টমার অনেক কম আসবে। এখন নতুন অনলাইন বিজনেস কিভাবে শুরু করবেন? অনলাইন বিজনেস শুরু করলে প্রথমেই প্রয়োজন প্রচার। আপনার বিজনেস জন সমাজের মাঝে প্রচার করতে হবে। 

যখন আপনার বিজনেস সম্পর্কে সবাই জানবে তখন কাস্টমার সয়ংক্রিয় ভাবে চলে আসবে। আবার প্রশ্ন হতে পারে অনলাইন বিজনেস প্রচার কিভাবে করবো? আজকে আমরা আলোচনা করবো কিভাবে অনলাইন বিজনেস প্রচার করবেন।

নতুন বিজনেস প্রচার করার কিছু টিপস


১. গুগল এডসেন্স


বর্তমানে পৃথিবীর সবথেকে জনপ্রিয় বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক গুগল এডসেন্স। হাজার হাজার কোম্পানি তাদের ওয়েবসাইট, এপস, ভিডিও, বিজনেস ইত্যাদি গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে প্রচার করে। গুগল এডসেন্স বিভিন্ন স্থানে বিজ্ঞাপন গুলো দেখাই যেমন:- ইউটিউব, গুগল সার্চ ইঞ্জিন, এডসেন্স এপ্রুভ পাওয়া ওয়েবসাইট, সি এস ই ( কাস্টম সার্চ ইঞ্জিন ) ইত্যাদি। এডসেন্সের মাধ্যমে যেকোনো বিজ্ঞাপন খুব তাড়াতাড়ি জনসমাজের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে।

 এখন আপনার অনলাইন বিজনেস যদি প্রচার করতে হয় তাহলে সর্বোত্তম মাধ্যম হবে গুগল এডসেন্স। প্রশ্ন হতে পারে কিভাবে গুগল এডসেন্সে বিজ্ঞাপন দিবেন? বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য গুগলের আরেকটি ওয়েবসাইট গুগল এডওয়ার্ডে আপনাকে বিজ্ঞাপন দিতে হবে।

 বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য অবশ্যই গুগলকে অর্থ দেওয়া লাগবে। এরপর আপনার বিজ্ঞাপন গুগলে দিতে হবে। আপনার বিজনেস কোন ক্যাটাগরির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত সেই অনুযায়ী কিওয়ার্ড দেওয়া লাগবে। এরপর গুগল আপনার দেওয়া কিওয়ার্ড অনুযায়ী বিজ্ঞাপন দেখাবে। এভাবে আপনি গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে আপনার অনলাইন বিজনেস প্রচার করতে পারেন।



২. স্পন্সর


সহজে আপনার বিজনেস প্রচার করতে হলে আরেকটি সর্বোত্তম মাধ্যম হবে স্পন্সর। এই পদ্ধতিতে একটি জনপ্রিয় লোককে টার্গেট করা হয়। এরপর সেই লোকের মাধ্যমে পন্যের প্রচার করানো হয়। যেহেতু একটি জনপ্রিয় লোককে অনেকে চেনে এবং তাদের ফ্যান ফলোয়ার অনেক বেশি থাকে তাই পন্যের প্রচার খুব তাড়াতাড়ি হয়। বর্তমানে বেশিরভাগ স্পন্সর ইউটিউবের মাধ্যমে হয়। 

এখন আপনি এমন একটি ইউটিউব চ্যানেলকে বেছে নিতে পারেন যে চ্যানেলে সাবস্ক্রাইবার অনেক ভালো এবং সেই চ্যানেল আপনার বিজনেস রিলেটেড। এরপরে সেই চ্যানেল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে তার সাথে চুক্তি করতে হবে। এরপর তাকে কিছু নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক দিয়ে বিজনেসের প্রচার করাতে হবে। এভাবে খুব সহজেই প্রচার করা যায়। আপনি চাইলে অন্যান্য প্লাটফর্মেও স্পন্সর দিতে পারেন। 

তবে ইউটিউবের মাধ্যমে স্পন্সর করা সবথেকে ভালো হবে। তবে একটি বিষয় খেয়াল রাখবেন আপনি যেই চ্যানেলের মাধ্যমে স্পন্সর করবেন সেই চ্যানেল যেনো আপনার ওয়েবসাইট রিলেটেড হয়।


৩. আফিলিয়েট


বিজনেস প্রচার করার আরেকটি জনপ্রিয় মাধ্যম হলো আফিলিয়েট। এটি অনেকটা রেফার করার মতো। আপনার অনলাইন বিজনেসের ওয়েবসাইটে একটি আফিলিয়েট জোন রাখতে হবে। আপনার ওয়েবসাইটে যারা সাইন আপ করবে তাদের প্রত্যেকের একটি আফিলিয়েট লিংক হবে। এখন সেই আফিলিয়েট লিংক দিয়ে যদি কেও আপনার ওয়েবসাইটে সাইন আপ করে তাহলে যার আফিলিয়েট লিংক সে কমিশন পাবে। 

এক্ষেত্রে কমিশন আপনাকে নির্ধারণ করতে হবে। এভাবে কাস্টমার খুব তাড়াতাড়ি পাওয়া যায় এবং এভাবে একটি কমিউনিটি তৈরি হয়ে যায়।


৪. ফেসবুক এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া।


ফেসবুক পৃথিবীর সবথেকে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া। বর্তমানে মিলিয়ন মিলিয়ন লোক ফেসবুক ব্যবহার করে। আপনার অনলাইন বিজনেসের ক্ষেত্রে অনেক কাস্টমার ফেসবুক এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়াতে পেয়ে যাবেন। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং সবথেকে বেশি জনপ্রিয় এবং এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। 

যেহেতু সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ থাকে তাই সেখানে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা শুরু করা যায়। আপনার অনলাইন বিজনেসকে প্রচার করতে চাইলে সোশ্যাল মিডিয়া গুলো ব্যবহার করতে পারেন।



৫. স্পেশাল অফার এবং ডিসকাউন্ট


প্রথম দিকে বেশিরভাগ কোম্পানি তাদের পন্যের উপর অনেক ছাড় দেই। এতে করে অনেক কাস্টমার বেড়ে যায়। আপনি যদি নতুন ব্যবসা শুরু করেন তাহলে কিছু ডিসকাউন্ট দিয়ে পন্য বিক্রি করতে পারেন। এতে আপনার ক্ষতি হলেও কাস্টমার অনেক বেড়ে যাবে এবং বিজনেসের প্রচার অনেক তাড়াতাড়ি হবে। কিছু স্পেশাল ইভেন্ট গুলোতে সেই ইভেন্ট রিলেটেড পন্যের উপর ডিসকাউন্ট দিতে পারেন। ইভেন্ট রিলেটেড পন্য অনেক বিক্রি হয়। এভাবে আপনি বিভিন্ন পন্যের ডিসকাউন্ট দিয়ে নিজের অনলাইন ব্যবসার পথ সুগম করতে পারেন।


আজকের আলোচনা এই পর্যন্তই। পরবর্তী পোস্টে আমি অনলাইন বিজনেস সম্পর্কে আরোও আলোচনা করবো। ততদিন আমাদের ওয়েবসাইটের সাথে থাকুন।


ধন্যবাদ সবাইকে।

Leave a Comment