কিভাবে ফেসবুক গ্রুপে মেম্বার বাড়াবেন? ফেসবুক মার্কেটিং সিরিজ ( পর্ব-২ )

ফেসবুক মার্কেটিং, ফেসবুক গ্রুপ



হ্যালো গায়েজ। আমাদের ফেসবুক মার্কেটিং টিউটোরিয়াল এর দ্বিতীয় পর্বে আপনাকে স্বাগতম। এর আগে আমরা ফেসবুক মার্কেটিং এর ব্যাসিক ধারণা নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। এই পোস্টটি পড়ার আগে একবার আগের পোস্টটি পড়ে আসার অনুরোধ রইলো। 

আরোও পড়ুন: ফেসবুক মার্কেটিং ব্যাসিক টিপস। ফেসবুক মার্কেটিং সিরিজ ( পর্ব-১ )

যেহেতু সেই পোস্টে ফেসবুক গ্রুপ নিয়ে প্রাথমিক বিষয় গুলো আলোচনা করা হয়েছে তাই আজকে আমরা একটু বিশদ আলোচনার দিকে যাবো। আজকে আমরা আলোচনা করবো কিভাবে ফেসবুক গ্রুপে মেম্বার বাড়াবেন? দেরি না করে চলুন শুরু করি।


ফেসবুক গ্রুপ কি জরুরী?


ফেসবুক মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে সবথেকে বেশি ভুমিকা রাখে ফেসবুক গ্রুপ। যেহেতু ফেসবুক গ্রুপ একটি বহুমুখী মিডিয়া তাই এখানে সবাই তার মনের ভাব প্রকাশ করতে চাই। বর্তমানে বেশিরভাগ ফেসবুক মার্কেটিং এর শুরু হয় ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে। অতএব ফেসবুক মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে ফেসবুক গ্রুপ অনেক ভুমিকা পালন করে।


ফেসবুক গ্রুপে মেম্বার কিভাবে বাড়াবেন?


বর্তমানে নতুন গ্রুপকে দাড় করাতে গেলে অনেক খাটতে হয়। যেহেতু নতুন গ্রুপে কোনো মেম্বার থাকে না তাই মেম্বার বাড়ানোর জন্য অনেক কসরত করতে হয়। তবে আজকে আমি এমন কিছু টিপস দিতে চলেছি যেগুলো ফলো করলে খুব সহজেই গ্রুপে মেম্বার বাড়তে পারবেন। নিচে পয়েন্ট আকারে সবগুলো টিপস দেওয়া হলো।


১. ফ্রেন্ডস ইনভাইট


নতুন গ্রুপে যেহেতু কোনো মেম্বার থাকে না তাই ফ্রেন্ডস ইনভাইট করে আমাদের কিছু মেম্বার বাড়িয়ে নিতে হবে। এক্ষেত্রে একটি বিষয় মাথাই রাখবেন। আপনি যে ফ্রেন্ড কে ইনভাইট করছেন সে যেনো কিছুটা হলেও আপনার ব্যবসায় আগ্রহী হয়। এমন ফ্রেন্ড ইনভাইট করলেন যার আপনার ব্যবসায় কোনো আগ্রহ নেই এমন মেম্বার আপনার গ্রুপের জন্য কোনো কাজের না। ধরুন আপনি ডোমেইন হোস্টিং এর ব্যবসা শুরু করলেন। এখন একজন ডোমেইনের ড বোঝে না সে তো আর আপনার কাছ থেকে ডোমেইন কিনতে যাবে না। অতএব আপনার ব্যবসা সম্পর্কে কিছুটা অবগত আছে এমন ফ্রেন্ড ইনভাইট করুন।


২. ট্যাগ এবং গ্রুপ সাজেশন


আপনার গ্রুপ কোন ক্যাটাগরির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত সেটাকে ট্যাগ বলে। ধরুন আপনি জামা কাপড় নিয়ে ব্যবসা শুরু করলেন। এক্ষেত্রে আপনার ব্যবসা ফ্যাশন ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত। গ্রুপের সেটিংস থেকে ট্যাগ যোগ করতে পারবেন। এবার গ্রুপ সাজেশন কি। আমরা যখন একটি গ্রুপের মধ্যে ঘাটাঘাটি করি তখন গ্রুপের মধ্যে কখনো কখনো ফেসবুক ঐ গ্রুপের মতো অন্যান্য গ্রুপে যোগ হতে বলে। অর্থাৎ ফেসবুক ঐ গ্রুপ গুলোতে যোগ হওয়ার সাজেশন দেই। আপনাকে এমন কিছু গ্রুপ সাজেশনের জন্য বেছে নিতে হবে যা আপনার গ্রুপ রিলেটেড। তবে জনপ্রিয় গ্রুপ ছাড়া সাজেস্ট না করাই ভালো। গ্রুপ সেটিংসে রিকমান্ডেড গ্রুপ নামের একটি অপশন পাবেন। সেখান থেকে আপনার গ্রুপের সাথে ম্যাচ করে এমন জনপ্রিয় গ্রুপ গুলোকে সাজেস্ট করুন।


৩. ফ্রেন্ডস ইনভাইট করানো


গ্রুপে শুধু আপনি ফ্রেন্ড ইনভাইট করলে চলবে না। গ্রুপের মেম্বার গুলোকে দিয়ে ফ্রেন্ড ইনভাইট করাতে হবে। গ্রুপে গিভওয়ে দিয়ে ফ্রেন্ড ইনভাইট করাতে পারেন। এখন গিভওয়ে কি? ধরুন আপনার কাছে প্রিমিয়াম কিছু জিনিস আছে। সেটি আপনি উন্মুক্ত করতে চাইছেন। এক্ষেত্রে আপনি গ্রুপে গিভওয়ে করতে পারেন। আপনার প্রিমিয়াম জিনিস গুলো অনেকের কাজে লাগতে পারে। এখন গিভওয়ে দিলে সম্পুর্ন উন্মুক্ত করা যাবে না। আপনি একটি শর্ত জুড়ে দিতে পারেন। যেমন ১০০+ ফ্রেন্ড ইনভাইট করলে প্রিমিয়াম জিনিসটি ফ্রিতে দেওয়া হবে। এভাবে খুব তাড়াতাড়ি মেম্বার বাড়ানো যায়।


৪. এক্টিভিটি বজায় রাখা


ফেসবুক বেশির গ্রুপ কে সার্চ রেজাল্ট এবং সাজেশনে দেখাই এক্টিভিটির জন্য। আপনার গ্রুপের মেম্বার গুলো যত এক্টিভ থাকবে তত ফেসবুক সাজেশন এবং সার্চ রেজাল্টে আপনার গ্রুপ দেখাবে। এখন আপনি এক্টিভ থাকলেই চলবে না। অন্যান্য মেম্বারদের এক্টিভ থাকা লাগবে। বিভিন্ন উপায়ে মেম্বারদের এক্টিভ রাখা যায়। যেমন আপনি এমন এমন প্রশ্ন করতে পারেন যেখানে মেম্বার গুলো কমেন্ট করতে বাধ্য। তাছাড়া কারোর প্রশ্ন ধরুন আপনার কাছে বললো। আপনি বলতে পারেন যে প্রশ্নটি গ্রুপে পোস্ট করুন। এভাবে খুব সহজেই গ্রুপের এক্টিভিটি বাড়াতে পারেন।


৫. তাড়াতাড়ি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া।


গ্রুপে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করতে পারে। সেসব প্রশ্নের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব উত্তর দিতে হবে। আপনি যদি কাস্টমারের প্রশ্নের উত্তর তাড়াতাড়ি দিতে পারেন তাহলে কাস্টমার খুশি হয় এবং পরবর্তীতে আপনার পন্য কেনার সম্ভবনা বেড়ে যায়। তাছাড়া গ্রুপে এক্টিভিটি অনেক বেড়ে যায় এবং এর ফলে ফেসবুক আপনার গ্রুপ কে সাজেস্ট করে।


ফেসবুক মার্কেটিং এর পরবর্তী পর্বের জন্য আমন্ত্রণ রইলো। আজ এ পর্যন্তই। সবাই ভালো থাকবেন।


ধন্যবাদ সবাইকে।

Leave a Comment