ফেসবুকে নতুন বিজনেস শুরু করার ক্ষেত্রে কিছু টিপস। ফেসবুক মার্কেটিং সিরিজ ( পর্ব-৩ )

ফেসবুক মার্কেটিং


 


হ্যালো গায়েজ, ফেসবুক মার্কেটিং এর তৃতীয় পর্বে আপনাদের সবাইকে স্বাগতম। আজকে আমি কিছু টিপস নিয়ে আলোচনা করবো। এর আগে ফেসবুক মার্কেটিং নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আমাদের এই ফেসবুক মার্কেটিং সিরিজ বিভিন্ন পর্বে বিভক্ত তাই আগের পর্ব গুলো পড়ে আসার অনুরোধ করছি। দেরি না করে চলুন শুরু করি।



শুরুর কথা।



ফেসবুকে নতুন বিজনেস শুরু করলে প্রথম দিকে অনেক পরিশ্রম করতে হবে। যেহেতু আপনার বিজনেস সম্পুর্ন নতুন এবং কেও আপনার বিজনেস সম্পর্কে অবগত নয় তাই কাস্টমার খুব কম আসবে অথবা আসবে না বললেই চলে। ফেসবুকে বিজনেস করতে হলে মার্কেটিং স্কিল অবশ্যই থাকা লাগবে। ফেসবুক একটি সামাজিক নেটওয়ার্ক তাই এখানে সবাই কোনো কিছু কেনার জন্য আসে না। 



আপনাকে তাদের আকৃষ্ট করতে হবে। আজকে আমি আলোচনা করবো নতুন বিজনেসের ক্ষেত্রে কিভাবে কাস্টমার আনবেন।




ফেসবুকে নতুন বিজনেসের ক্ষেত্রে কিছু টিপস



প্রথমে আপনাকে কাস্টমার দের আপনার পন্য বা সার্ভিস সম্পর্কে বিস্তারিত বোঝাতে হবে। একজন কাস্টমার আপনার পন্য সম্পর্কে যত বুঝবে তত আপনার পন্য বা সার্ভিসের উপর আগ্রহী হবে। একটা কথা সবসময় মনে রাখবেন যে জিনিস একটি বাচ্চা ছেলে বোঝে সেটাই বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করে। অতএব আপনাকে এমন বোঝাতে হবে যেনো সব বয়সের লোক সেটা বুঝতে পারে। 



এখন কিভাবে আপনার পন্য বা সার্ভিস সম্পর্কে মানুষদের অবগত করবেন? ফেসবুকে কোনো কিছু বোঝানোর জন্য সর্বোত্তম মাধ্যম হলো ইমেজ। বর্তমানে বেশিরভাগ লোক ফেসবুকে ইমেজ দেখে। আপনি একটি সুন্দর পোস্টার তৈরি করতে পারেন এবং সেই পোস্টারে আপনার পন্য বা সার্ভিস সম্পর্কে ভালো ভাবে বোঝাতে পারেন। 



এক্ষেত্রে ইমেজ দেখে অনেকেই আপনারা পন্য সম্পর্কে বুঝবে। এবার প্রশ্ন হতে পারে কেমন পোস্টার বা ইমেজ তৈরি করবেন? সবথেকে ভালো হবে যদি বিভিন্ন ধরনের চিহ্ন দ্বারা বোঝাতে পারেন। তবে টেক্সট অবশ্যই দিতে হবে। আপনি ১০০ শতাংশের মধ্যে ৫০ শতাংশ চিহ্ন এবং বাকি ৫০ শতাংশ টেক্সট দিয়ে বোঝাতে পারেন। 



এরপরে পোস্টের উপর একটি সুন্দর ক্যাপশন দিতে হবে। ক্যাপশনে আপনার বিস্তারিত সবকিছু তুলে ধরতে হবে। শুধু ইমেজ দিয়েই না ভিডিও দিয়েও পন্য সম্পর্কে কাস্টমারদের অবগত করতে পারেন। এক্ষেত্রে নিজে পন্য সম্পর্কে সকল কিছু খুলে বললে ভালো হয়। 



আবার অনেকে লাইভ স্ট্রিম করে পন্য বিক্রি করে। এক্ষেত্রে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করতে হবে। এবার আসি প্রচারে। ধরুন আপনি ভালো ভাবে বোঝাতে সক্ষম হলেন। এখন আপনার পন্যের প্রচার দরকার। বর্তমানে ফেসবুক পেজ প্রচার না করলে রিচ বৃদ্ধিই পায় না। এর জন্য আপনাকে প্রচার করা লাগবে। আপনি পোস্ট কিংবা পেজ শেয়ার করার মাধ্যমে কিছুটা প্রচার করতে পারেন। 



তবে সর্বোত্তম মাধ্যম হবে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেওয়া। এর জন্য আপনার একটি নির্দিষ্ট পোস্ট বুস্ট করতে পারেন। তবে যেই বুস্ট করবেন সেই পোস্টে যেনো আপনার পন্য সম্পর্কিত হয়। ফেসবুক তাদের নিজস্ব বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আপনার পোস্ট ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেবে। 



এখন বুস্ট করতে টাকা খরচ করা লাগে এবং এল জন্য একটি পেইপাল বা প্রিপেইড কার্ড প্রয়োজন। আপনার কাছে যদি দুইটি জিনিসের মধ্যে একটিও থাকে তাহলে বুস্ট করতে পারবেন। না থাকলে বিভিন্ন ধরনের পেজ আছে যেখানে বিকাশ বা অন্যান্য পেমেন্ট নিয়ে আপনার পোস্ট বুস্ট করে দেবে। এক্ষেত্রে সঠিক লোক বেছে বুস্ট করে নিবেন। বিজ্ঞাপন দিয়ে খুব সহজেই পন্যের প্রচার করা যায়। 



বিশেষ করে নতুন ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রচার অনেক গুরুত্বপুর্ন। এবার আলোচনা করবো ডেলিভারি সিস্টেম নিয়ে। এক্ষেত্রে অনেকেরই বিভ্রান্তি দেখা যায়। ডেলিভারি কিভাবে দিলে ভালো হবে? প্রথমত আপনার যদি একটি ই-কমার্স সাইট থাকে তাহলে সেই সাইটের মাধ্যমে বিক্রি করতে পারেন। 



দ্বিতীয়ত ই-কমার্স সাইট তৈরি করতে অনেক খরচ করা লাগে সেক্ষেত্রে ম্যাসেন্জারে দিয়ে পন্য বিক্রি করতে পারেন। বর্তমানে বেশিরভাগ ফেসবুক মার্কেটার ম্যাসেন্জারের মাধ্যমে পন্য বিক্রি করে। আপনি অন্যান্য ম্যাসেন্জিং প্লাটফর্ম দিয়েও পন্য বিক্রি করতে পারেন তবে ম্যাসেন্জার যেহেতু ফেসবুকের সাথে সেট করা থাকে তাই ম্যাসেন্জার দিয়েই পন্য বিক্রি করা ভালো হবে। 



অনেকেই একটি ভুল সবসময়ই করে থাকে সেটা হলো আগে থেকেই টাকা চাওয়া। নতুন ব্যবসার ক্ষেত্রে এমনটা কখনই করা উচিত নয়। আপনি ক্যাশ অন ডেলিভারি পদ্ধতির পন্য বিক্রি করতে পারেন। এই পদ্ধতিতে পন্য কাস্টমারের কাছে পৌঁছানোর পর পেমেন্ট পাবেন। 



এক্ষেত্রে আলাদা করে ডেলিভারি চার্জ নিতে পারেন। আবার অনলাইন ব্যবসার ক্ষেত্রে ক্যাশ অন ডেলিভারি দেওয়া যায় না। এক্ষেত্রে আগে টাকা নিয়েই পন্য বিক্রি করতে হবে। এবার আসি ডেলিভারি লোকেশনের আলোচনায়। ব্যবসার শুরুতে আপনার কাছে তেমন পুঁজি থাকে না এবং ডেলিভারি বয়ও থাকে না। এক্ষেত্রে দুর দুরান্তে ডেলিভারি পৌঁছানো অনেক কষ্টের হয়ে যায়। এক্ষেত্রে আপনি লোকাল এরিয়ার মধ্যে ডেলিভারি করতে পারেন। 



প্রথম দিকে অনেকেই লোকাল এরিয়ার মধ্যে ব্যবসা শুরু করে এরপর আস্তে আস্তে ব্যবসার প্রসার ঘটায়। আপনিও এমন ভাবে লোকাল এরিয়ার মধ্যে ব্যবসা শুরু করতে পারেন এবং দিন দিন প্রসার করতে পারেন। আরেকটি পদ্ধতিতে পন্য দুর দুরান্তে পৌঁছানো যায়। সেটি হলো কুরিয়ার সার্ভিস দিয়ে। কিন্তু এর জন্য আলাদা করে ডেলিভারি চার্জ দেওয়া লাগে। 



নতুন বিজনেসের ক্ষেত্রে কাস্টমার ডেলিভারি চার্জ দিতে রাজি হয় না। তাই লোকাল বিজনেস শুরু করাই ভালো।




আজ এ পর্যন্তই। আমাদের ফেসবুক মার্কেটিং এর তৃতীয় পর্ব আজ শেষ করলাম। আশাকরি সম্পুর্ন পড়েছেন। পরবর্তী পর্ব গুলো খুব শীঘ্রই আসছে। ততদিন আমাদের সাথে থাকুন।


ধন্যবাদ সবাইকে

Leave a Comment