ফেসবুক মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে ই-কমার্স সাইটের গুরুত্ব। ফেসবুক মার্কেটিং সিরিজ ( পর্ব-৪ )

 

ফেসবুক মার্কেটিং



হ্যালো গায়েজ, ফেসবুক মার্কেটিং এর চতুর্থ পর্বে আপনাদেরকে স্বাগতম। ফেসবুক মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে পন্যের অর্ডার নিতে হলে সর্বোত্তম মাধ্যম হবে ই-কমার্স সাইট। আপনি যদি একটি সুন্দর ই-কমার্স সাইট তৈরি করতে পারেন এক্ষেত্রে শুধু ফেসবুক থেকেই নয় অন্যান্য মাধ্যম গুলো থেকেও কাস্টমার পাবেন। আবার আপনাকে সবসময় এক্টিভ থাকা লাগবে না। 


এখন প্রশ্ন হলো ই-কমার্স সাইট তৈরি করতে হলে কেমন খরচ হতে পারে। যদি ব্যবসা শুরু করতে হয় তাহলে একটু বেশি বাজেট রাখা উত্তম। একটি ভালো মানের ই-কমার্স সাইট তৈরি করতে অনেক খরচ হতে পারে। আবার আপনার পন্যের প্রচার দরকার। পরবর্তী পর্বে আমরা বাজেট নিয়ে আলোচনা করবো। আজ শুধু ই-কমার্স সাইট তৈরি করলে কত খরচ হতে পারে এবং ই-কমার্স সাইটের সুবিধা নিয়ে আলোচনা করা হবে।


ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করলে কত খরচ হবে?


ওয়েবসাইট তৈরি করার সবথেকে বেস্ট মাধ্যম হলো ওয়ার্ডপ্রেস। খুব সহজেই ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে বিনা কোডিং অভিজ্ঞতা ছাড়াই প্রফেশনাল মানের ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন। যদিও ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করলে কোডিং জ্ঞান না থাকলেও চলে তবে এর জন্যও আপনাকে কিছু জ্ঞান লাভ করতে হবে। যদি ওয়ার্ডপ্রেস সম্পর্কে ভালো জ্ঞান না থাকে তাহলে নিজে ভালো মানের ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন না। 


এর জন্য একজন প্রফেশনাল লাগবে। যাদের বাজার দর অনেক। বর্তমানে অনেকে ফ্রিল্যান্সিং পেশা হিসেবে ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট কাস্টমাইজ করে। তাদের দিয়ে খুব সহজেই নিজের পছন্দ মতো সুন্দর ওয়েবসাইট বানিয়ে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনাকে অনেক খরচ করতে হবে। শুধু কাস্টমাইজ করলেই হবে না। আপনাকে অনেক কিছু কিনতে হবে। প্রথমেই আপনার ওয়েবসাইটের জন্য হোস্টিং লাগবে। এরপর আপনাকে একটি ডোমেইন কেনা লাগবে। 


ওয়ার্ডপ্রেস নিয়ে আমাদের একটি পোস্ট ইতোমধ্যে আছে। সেখানে সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ওয়ার্ডপ্রেস সমন্ধে পরিপূর্ণ ধারণা পেতে সেই পোস্টটি দেখতে পারেন। আবার আপনার ওয়েবসাইটের জন্য থিম এবং প্লাগইন লাগবে। এগুলোর দাম অনেক। বিশেষ করে একটি ভালো মানের ই-কমার্স ওয়ার্ডপ্রেস থিমের দাম বর্তমানে অনেক। এরপর ফেসবুক ছাড়া অন্যান্য মাধ্যম থেকে কাস্টমার নিতে হলে এসইও অর্থাৎ সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন করা লাগবে। 


যদি আপনার এসইও সম্পর্কে ধারণা থাকে তাহলে ভালো কথা আর না থাকলে একজন এসইও এক্সপার্ট হায়ার করা লাগবে। অর্থাৎ বোঝায় যাচ্ছে ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করতে চাইলে বাজেট একটু বেশি রাখতে হবে।





কেনো ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করবেন?


যদিও ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করার ক্ষেত্রে অনেক বেশি খরচ হবে কিন্তু এতে আপনার কাস্টমার অনেক বেড়ে যাবে এবং আপনাকে সবসময় এক্টিভ থাকা লাগবে না। আবার যেসব পন্য অনলাইনে বেচার যোগ্য যেমন:- প্রিমিয়াম একাউন্ট, হোস্টিং, ডোমেইন, প্রিমিয়াম থিম অথবা এরকম আরোও জিনিস যেগুলো অনলাইনে ব্যবহৃত হয় সেগুলো ইনস্ট্যান্ট ডেলিভারি করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনার মুল্যবান সময় নষ্ট হবে না। 


আপনি আপনার ওয়েবসাইট দিয়ে কাস্টমারদের পন্য সম্পর্কে অবগত করতে পারবেন। অর্থাৎ ই-কমার্স সাইটের সুবিধা হলো আপনার মুল্যবান সময় নষ্ট হবে না, কাস্টমারদের আপনার পন্য সম্পর্কে ভালো ভাবে বোঝাতে পারবেন, শুধু ফেসবুক থেকেই না অন্যান্য মাধ্যম থেকেও কাস্টমার আনতে পারবেন ইত্যাদি। অর্থাৎ ই-কমার্স সাইট তৈরি করলে আপনার বিভিন্ন দিক থেকে সুবিধা হবে।


আমাদের শেষ কথা


ফেসবুক মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে ম্যাসেন্জার বা অন্যান্য ম্যাসেন্জিং প্লাটফর্ম দিয়ে অর্ডার নিলে আপনাকে বেশিরভাগ সময় এক্টিভ থাকা লাগবে। একজন মানুষ সবসময় এক্টিভ থাকতে পারে না। ই-কমার্স সাইট দিয়ে আপনি এক্টিভ না থাকলেও কিছু পন্য ইনস্ট্যান্ট ডেলিভারি দিতে পারবেন। অর্থাৎ এখানে আপনার আলাদা করে সময় অথবা ডেলিভারি চার্জ দেওয়া লাগছে না। 


আবার অনেক সময় ম্যাসেন্জার দিয়ে পন্য বিক্রি করলে এক্টিভ না থাকার কারণে কাস্টমার বিরক্ত হয় এবং নেগেটিভ রিভিউ আসে। অতএব একটি ই-কমার্স সাইট আপনাকে বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করবে। খুব তাড়াতাড়ি ব্যবসা প্রসার করতে চাইলে অবশ্যই একটি ই-কমার্স সাইট থাকা জরুরি। যদিও এতে খরচ একটু বেশি কিন্তু ফেসবুকে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে অনেক খরচ করতে হবে অর্থাৎ বাজেট অনেক বেশি রাখতে হবে।




আজ এই পর্যন্তই। ফেসবুক মার্কেটিং পরবর্তী পর্বে আরোও বিভিন্ন বিষয়ের উপর বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। যদি কোনো বিষয় বুঝতে সমস্যা হয় তাহলে আমাদেরকে কমেন্ট অথবা যোগাযোগ মাধ্যম দিয়ে আপনার সমস্যা ব্যক্ত করুন। আমরা যত দ্রুত সম্ভব আপনার প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো।

আল্লাহ হাফিজ

Leave a Comment