ফেসবুক মার্কেটিং কি? ফেসবুক মার্কেটিং আল্টিমেট গাইডলাইন।

ফেসবুক মার্কেটিং (Facebook marketing) কি?

আমরা অনেকে সোশ্যাল মার্কেটিং (social marketing) এর সাথে পরিচিত। ফেসবুক মার্কেটিং (Facebook marketing) সোশ্যাল মার্কেটিং এর অন্তর্ভুক্ত। তবে সোশ্যাল মার্কেটিং এর জগতে ফেসবুক মার্কেটিং (Facebook marketing) আলাদা একটি জায়গা করে নিয়েছে। এমনকি ফেসবুক মার্কেটিং এখন আলাদা করে এফ-কমার্স নামে পরিচিত। ফেসবুকের মাধ্যমে কোনো পন্য প্রচার করা করাকে ফেসবুক মার্কেটিং বলে। বর্তমানে ফেসবুক মার্কেটিং খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

এর প্রধান কারণ হলো ফেসবুকে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ থাকে এবং একটি নির্দিষ্ট শ্রেনীর মানুষদের খুব সহজেই টার্গেট করা যায়। আজকে আমি আপনাদের ফেসবুক মার্কেটিং কিভাবে করবেন? কেনো ফেসবুক মার্কেটিং করবেন? কিভাবে ফেসবুক মার্কেটিং করে সফল হবেন? ফেসবুক মার্কেটিং এর উপকারিতা কি? ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর দেবো। সাথে সম্পুর্ন ফেসবুক মার্কেটিং গাইডলাইন এবং ফেসবুক মার্কেটিং টিপস নিয়ে আলোচনা করা হবে। তো বন্ধুরা দেরি না করে চলুন শুরু করি।

কেনো ফেসবুক মার্কেটিং (Facebook marketing) করবেন?

বর্তমানে পৃথিবীর সবথেকে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক। ফেসবুকে প্রতিদিন মিলিয়ন মিলিয়ন লোক এক্টিভ থাকে। বাংলাদেশেও এর ব্যাতিক্রম নয়। বাংলাদেশে প্রচুর লোক আছে যারা ফেসবুক ব্যবহার করে। ফেসবুকে আপনি আপনার পন্য অনুযায়ী কাস্টমার টার্গেট করতে পারবেন। সাথে আপনার পন্যের বহুল প্রচার আপনি ফেসবুকের মাধ্যমে করতে পারবেন।
কিভাবে ফেসবুক মার্কেটিং করতে হয়?
আমি নিচের স্টেপ গুলো যথাসম্ভব সহজ সরল ভাবে তৈরি করার চেষ্টা করেছি। আশাকরি নিচের স্টেপ গুলো মেনে ফেসবুক মার্কেটিং শুরু করলে আপনার কিছুটা হলেও লাভ হবে।

১. পন্য বাছায়

যদি ফেসবুক মার্কেটিং করতে চান তাহলে আপনার প্রয়োজন পন্য। পন্য মোট দুই প্রকারের হয়ে থাকে। প্রথমটি হলো অনলাইনে ব্যবহার যোগ্য এবং দ্বিতীয়টি হলো বাস্তব জীবনে ব্যবহার যোগ্য। অনলাইনে ব্যবহার যোগ্য পন্যের কিছু উদাহরণ হলো:- ডোমেইন, হোস্টিং, প্রিমিয়াম একাউন্ট, ওয়েবসাইট ইত্যাদি। অপরদিকে বাস্তব জীবনে ব্যবহার যোগ্য পন্য অসংখ্য যেমন:- টি-শার্ট, প্যান্ট, সানগ্লাস, গেঞ্জি ইত্যাদি। এখন আপনি কোন ধরনের পন্য বিক্রি করবেন সেটা আপনার নির্ভর করবে। যদি আপনার বাস্তব জীবনে ব্যবহার যোগ্য কোনো পন্যের বড় ব্যবসা থাকে এবং আপনি সেই ব্যবসা অনলাইনে প্রচার করতে চান তাহলে ফেসবুক মার্কেটিং করতে পারেন। এখন আপনার পুঁজি একটু বেশি থাকতে হবে যদি পন্য বাস্তব জীবনে ব্যবহার যোগ্য হয়।

কারন এরূপ পন্য আপনাকে ডেলিভারি দিতে হবে। অপরদিকে অনলাইনে ব্যবহার যোগ্য পন্যের ক্ষেত্রে আপনাকে ডেলিভারি দেওয়া লাগবে না। সবকিছু অনলাইনে মিটিয়ে নেওয়া যায়। তবে আমি বলবো না যে আপনি শুধু অনলাইনে ব্যবহার যোগ্য পন্য বিক্রি করুন। অনেকে আছে যারা বাস্তব জীবনে ব্যবহার যোগ্য পন্য ফেসবুকে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে। তবে ভালো মানের কোনো বিজনেস না থাকলে এবং পুঁজি কম হলে অনলাইনে ব্যবহার যোগ্য পন্য বিক্রি করাই শ্রেয় হবে বলে আমি মনে করি। এরপর আপনাকে আরেকটি গুরুত্বপুর্ন বিষয় সম্পর্কে ভাবতে হবে তা হলো কাস্টমার টার্গেটিং। আপনি ফেসবুকে যে পন্য বেচবেন সেই পন্য কারা কিনবে এবং তারা কি ধরনের কাস্টমার সেটা আপনাকে আগে জানতে হবে। ধরুন আপনি ফেসবুকে ধুতি পাঞ্জাবী বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিলেন।

এখন ফেসবুকে একটি সমীক্ষা অনুযায়ী ১৮-২৫ বছর বয়সের মধ্যে বেশি লোক ফেসবুক চালাই অর্থাৎ ফেসবুক কিশোর এবং যুবক বেশি কিন্তু এখানেই প্রধান সমস্যা। আপনি যে পন্য বিক্রি করছেন সেটা এখনকার কিশোর অথবা যুবকেরা পরিধান করে না। বর্তমানে বেশিরভাগ কিশোর এবং যুবকেরা জিন্স প্যান্ট এবং টি-শার্ট অথবা গেঞ্জি পরতে বেশি ভালোবাসে। এখন আপনি যদি ধুতি পাঞ্জাবীর জায়গাই জিন্স প্যান্ট বা গেঞ্জি অথবা টি-শার্ট বিক্রি করেন তাহলে বেশি লোক ক্রয় করবে যেহেতু ফেসবুকে ১৮-২৫ বছর বয়সের মধ্যে বেশি ইউজার রয়েছে তাই এসব পন্য বেশি বিক্রি হবে। আপনাকে এভাবে ভেবে চিন্তে পন্য বাছাই করতে হবে। অনলাইনে ব্যবহার যোগ্য পন্যের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই। পন্য বাছাই ফেসবুক মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে অনেক বেশি জরুরী। এখন প্রশ্ন হতে পারে কিভাবে সঠিক পন্য বাছবেন। এর জন্য নিচের স্টেপ গুলো ফলো করতে পারেন।

পন্য বাছাই:-

  • আপনার পুঁজি অনুযায়ী কয়েকটি পন্যের তালিকা তৈরি করুন।
  • এবার সব গুলো পন্য অ্যানালাইসিস করে দেখুন যে সেটি কোন বয়সের লোক কিনবে।
  • এরপর আপনাকে একটি শ্রেনী টার্গেট করতে হবে যে আপনার পন্য কেমন মানুষ কিনবে সেটা আপনাকে বেছে নিতে হবে।
  • আমি রিকোমেন্ড করবো যথাসম্ভব মাঝারি মূল্যের পন্য বেছে নিন।
 

আমি কিছু অনলাইনে ব্যবহার যোগ্য এবং অফলাইনে ব্যবহার যোগ্য পন্যের লিস্ট তৈরি করেছি যেগুলো নিয়ে ব্যবসা শুরু করলে ভালো ফল পাবেন। চলুন পন্য গুলো দেখে নিই।
 

অনলাইনে ব্যবহার যোগ্য পন্যের কিছু লিস্ট

 
ক. ডোমেইন হোস্টিং
বর্তমানে ফেসবুকে অনলাইনে ব্যবহার যোগ্য পন্যের মধ্যে ডোমেইন হোস্টিং অন্যতম। অনেকে আছে যারা ডোমেইন হোস্টিং রিসেলিং করে। তারা বড় বড় ডোমেইন হোস্টিং প্রোভাইডার কোম্পানির থেকে কম মূল্যে রিসেলার হোস্টিং কেনে এবং বেশি দামে বিক্রি করে। বর্তমানে অনেক কোম্পানি আছে যারা কম মূল্যে রিসেলার হোস্টিং দিয়ে থাকে। আপনি তাদের কাছ থেকে রিসেলার হোস্টিং কিনে সেগুলো বেশি দামে ফেসবুকের মাধ্যমে বিক্রি করে মুনাফা আয় করতে পারেন।

খ. প্রিমিয়াম অ্যাকাউন্ট
ফেসবুকে জনপ্রিয় পন্যের মধ্যে আরেকটি হলো প্রিমিয়াম অ্যাকাউন্ট। অনেকের বিভিন্ন ওয়েবসাইট বা অ্যাপের প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন প্রয়োজন হয়। তবে সবার কাছে পেমেন্ট ম্যাথড না থাকার কারণে যাদের কাছে পেমেন্ট ম্যাথড আছে তাদের কাছে শরণাপন্ন হতে হয়। যারা পেমেন্ট ম্যাথডের মাধ্যমে সাবস্ক্রিপশন কিনে দেই তারা কিছু লাভ রাখে। এভাবেই তারা মুনাফা আয় করে। আপনার কাছে যদি এরকম পেমেন্ট ম্যাথড থাকে তাহলে তার মাধ্যমে প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন নিয়ে সেগুলো বিক্রি করে মুনাফা আয় করতে পারেন।

 

গ. ওয়েবসাইট তৈরি করে বিক্রি
আপনি যদি ভালো মানের ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন তাহলে সেগুলো বিক্রি করে অনেক টাকা আয় করতে পারেন। বর্তমানে অনেকে ওয়েবসাইট তৈরি করে সেগুলো ফেসবুকের মাধ্যমে বিক্রি করে মুনাফা আয় করছে। তবে এর জন্য ডোমেইন, হোস্টিং, ওয়েব বিল্ডার, থিম ইত্যাদির প্রয়োজন হয় যা আপনাকেই কেনা লাগবে।

ঘ. রিচার্জের ব্যবসা
রিচার্জের ব্যবসা করে অনেকে ফেসবুকের মাধ্যমে প্রচুর টাকা আয় করছে। যারা এই ব্যবসা করে তারা কম টাকাই ইন্টারনেট বিক্রি করে কিন্তু তারা লাভ রেখে ইন্টারনেট বিক্রি করে। আপনিও এভাবে কম টাকাই ইন্টারনেট বিক্রি করে মুনাফা আয় করতে পারেন। এর জন্য আপনাকে রিচার্জ কিনতে হবে যা অনেকে বিক্রি করে। তাদের কাছ থেকে রিচার্জ কিনে আপনি সেগুলো বেশি দামে বিক্রি করে মুনাফা আয় করতে পারবেন।

ঙ. বুস্টিং করে
ফেসবুকে অনেকের পেজ প্রমোট করতে হয়। তার জন্য তারা ফেসবুক পোস্ট বুস্ট করে। তবে সবার কাছে পেমেন্ট ম্যাথড না থাকায় তারা সবাই বুস্ট করতে পারে না। এর জন্য যার কাছে পেমেন্ট ম্যাথড আছে তার কাছে শরণাপন্ন হতে হয়। এখন আপনার কাছে যদি পেমেন্ট ম্যাথড থাকে তাহলে অন্যের পেজ বুস্ট করে আয় করতে পারেন। বর্তমানে ফেসবুকে পেপাল এবং ভিসা ও মাস্টারকার্ড দিয়ে পেজ বুস্ট করা যায়। অনেকে ভেরিফাইড পেপাল একাউন্ট বিক্রি করে। আপনি তাদের কাছ থেকে একটি একাউন্ট কিনে ব্যবসা শুরু করে দিতে পারেন।

বাস্তব জীবনে ব্যবহার যোগ্য পন্যের কিছু লিস্ট

ক. ফ্যাশন রিলেটেড পন্য
ফেসবুকে প্রচুর মানুষ আছে যাদের ফ্যাশন রিলেটেড পন্য যেমন: ফ্যান্সি টি-শার্ট, জিন্স প্যান্ট, সানগ্লাস ইত্যাদির প্রয়োজন হয়। বর্তমানে ফেসবুকে যুবক বেশি থাকাই এরকম পন্য খুব বিক্রি হয়। আপনিও ফেসবুকে এমন পন্য বিক্রি করতে পারেন। অনেকে লাইভস্ট্রিমের মাধ্যমে এরকম পন্যের রিভিউ করে এবং যাদের পছন্দ হয় তারা অর্ডার করে নেই।

খ. মজাদার খাবার
খেতে কে না পছন্দ করে? ফেসবুকে প্রচুর লোক আছে যারা মজাদার এবং সুস্বাদু খাবার পছন্দ করে। আপনি চাইলে খাবারের ব্যবসা ফেসবুকে করতে পারেন। অনেকে মজাদার খাবার ফেসবুকের মাধ্যমে বিক্রি করছে এবং আয় করছে।

গ. ইলেকট্রনিক্স জিনিস পত্র
বর্তমানে ফেসবুকে অনেকে ইলেকট্রনিক জিনিস পত্র বিক্রি করে আয় করছে। তাহলে আপনি কেনো ব্যতিক্রম হবেন। অনেকের ইলেকট্রনিক জিনিস পত্রের প্রয়োজন হয়।
তো এই ছিলো আমাদের কিছু পন্যের লিস্ট। এর মধ্যে কোনো একটি পন্য নিয়ে ব্যবসা শুরু করলে আশাকরি সফল হবেন।

এভাবে আপনি একটি সঠিক পন্য বেছে নিয়ে কাজ শুরু করে দিতে পারেন। তবে পন্য বাছাই করার পরে আমাদের আরোও কাজ করতে হবে। চলুন এর পরবর্তী পদক্ষেপে যায়।

 

 

২. ফেসবুক পেজ এবং গ্রুপ

ফেসবুক থেকে আমরা যে আইডি ব্যবহার করি তার একটি সীমাবদ্ধতা আছে। আমরা ফেসবুক আইডিতে শুধু ৫০০০ জন ফ্রেন্ড তৈরি করতে পারি। অপরদিকে ফেসবুক পেজে আনলিমিটেড ফলোয়ার আনা যায়। আবার গ্রুপের ক্ষেত্রে আপনি গ্রুপে আনলিমিটেড মেম্বার যুক্ত করতে পারবেন। এখন আপনার প্রয়োজন একটি মাধ্যম যার মাধ্যমে আপনি পন্য বিক্রি করতে পারবেন। ফেসবুক আইডি দিয়ে অনেক মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয় না তাই আমাদের আরেকটি মাধ্যম প্রয়োজন যার মাধ্যমে আমরা অনেক লোকের কাছে পন্য পৌঁছাতে পারবো। ফেসবুক পেজের মাধ্যমে আপনি সুন্দর সুন্দর পোস্ট করে ফলোয়ার বাড়িয়ে নিতে পারেন। এর ফলে আপনি অনেক লোকের কাছে আপনার পন্য প্রচার করতে পারবেন। আবার ফেসবুকের মাধ্যমে পেজের একটি নির্দিষ্ট পোস্ট বুস্ট করা যায়। আপনি চাইলে পোস্ট বুস্ট করে আপনার পন্য লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন। অপরদিকে ফেসবুক গ্রুপ পন্য বিক্রি করার জন্য সবথেকে পারফেক্ট জায়গা। ফেসবুক গ্রুপ একটি বহুমুখী কমিউনিটি। এখানে সবাই পোস্ট করতে পারে এবং নিজের সমস্যা ব্যক্ত করতে পারে। আবার ফেসবুক গ্রুপে খুব তাড়াতাড়ি মেম্বার বাড়ানো যায়।

আরেকটি বিষয় হলো একটি গ্রুপে সাধারণত প্রচুর লোক এক্টিভ থাকে। ফেসবুক পেজের ক্ষেত্রে আপনার পন্য সব ফলোয়ারদের কাছে পৌঁছাবে কি না এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে পন্য অধিকাংশ গ্রুপ মেম্বারদের কাছে চলে যায়। তবে আমি বলছি না যে ফেসবুক গ্রুপের থেকে ফেসবুক পেজের বিস্তার লাভের ক্ষমতা অনেক কম। তবে ফেসবুক গ্রুপে আপনি এক্টিভ কাস্টমার পেয়ে যাবেন যা আপনার ফেসবুক মার্কেটিং বিস্তারে অনেক বেশি সাহায্য করবে। ফেসবুক গ্রুপের ক্ষেত্রে এডমিন একটু এক্টিভ থাকলে মেম্বার অনেক তাড়াতাড়ি বাড়তে থাকে। অপরদিকে ফেসবুক পেজের ক্ষেত্রেও দৈনিক এক্টিভ থাকলে রিচ অনেকটা বেড়ে যায়। তবে সেটি ধীর গতিতে। আপনি যদি তাড়াতাড়ি এবং বিনা খরচাই কিছুটা পন্যের প্রচার করতে চান তাহলে আমি মনে করি ফেসবুক গ্রুপ হবে সেরা মাধ্যম। তবে আমার গাইডলাইন অনুযায়ী যদি ফেসবুক পেজ এবং গ্রুপ একসাথে চালান তাহলে রিচ অনেক বেড়ে যাবে। গ্রুপে যদি মেম্বার বেড়ে যাই তাহলে গ্রুপ আফিলিয়েশন অথবা গ্রুপে পোস্ট করার মাধ্যমে পেজে ফলোয়ার বাড়িয়ে নিতে পারেন।

৩. কন্টেন্ট

ফেসবুক মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে একটি জরুরী বিষয় হলো কন্টেন্ট। আপনার কন্টেন্ট যত ভালো হবে প্রচার তত ভালো হবে। এবং কন্টেন্ট আপনার পন্য বিক্রি করতে অনেক সাহায্য করে। আপনি যদি কন্টেন্টের মাধ্যমে ভালো ভাবে আপনার পন্য সম্পর্কে সবাইকে বোঝাতে পারেন তাহলে বিক্রয় অনেকাংশে বেশী হবে। ফেসবুক মার্কেটিং রিলেটেড কন্টেন্ট প্রধানত তিন ধরনের হয়ে থাকে যথা: (ক) ফটো, (খ) ভিডিও এবং (গ) টেক্সট। এখন আপনার প্রশ্ন হতে পারে একটু ভালো মানের ফেসবুক মার্কেটিং রিলেটেড কন্টেন্ট কিভাবে তৈরি করবেন? এর জন্য নিচের স্টেপ গুলো অনুসরণ করুন।


স্টেপ ১: ফেসবুকে অন্যান্য ধরনের কন্টেন্টের তুলনায় ফটো বেশি দেখে। বেশিরভাগ লোক সাধারনত ফটো দেখে। অতএব আপনি যদি ফটোর মাধ্যমে আপনার পন্য সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরতে পারেন তাহলে প্রচার অনেক ভালো হবে। আমি মনে করি ফটো এবং টেক্সট এর কম্বিনেশন অনেক ভালো। তবে আমি বলবো আপনি অর্ধেকের বেশি বিষয়বস্তু ফটোতে যোগ করুন এবং টেক্সট এর মাধ্যমে বিস্তারিত বর্ণনা করতে পারেন।

স্টেপ ২: ফটোর ব্যাকগ্রাউন্ডে সুন্দর ডিজাইন অথবা পিকচার দিন। ফটোতে ব্যবহৃত লেখায় সুন্দর ফন্ট ব্যবহার করুন। বর্তমানে সোলাইমান লিপি, হিন্দ শিলিগুড়ি, বালু দা, মিনা ইত্যাদি বাংলা ফন্ট অনেক জনপ্রিয়। যেমন আমাদের সাইটে হিন্দ শিলিগুড়ি ফন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। আপনার পন্য সম্পর্কে আরোও কাস্টমারদের অবগত করার জন্য ফটোতে আপনার পন্য সম্পর্কিত পিএনজি টাইপের ইমেজ ব্যবহার করতে পারেন। এরূপ ইমেজের ব্যাকগ্রাউন্ড সচ্ছ থাকে। ফটোতে ব্যবহার করা ভাষা সহজ সরল, বানান সঠিক এবং বোধগম্য করুন। এতে সবাই খুব সহজে এবং পরিষ্কার ভাবে আপনার পন্য সম্পর্কে বুঝবে।

স্টেপ ৩: টেক্সট এর ক্ষেত্রে ভিতর ভিতর স্টিকার ব্যবহার করুন। এতে লেখা অনেক সুন্দর দেখাই। সহজ সরল এবং বোধগম্য ভাষা ব্যবহার করুন এবং অবশ্যই বানান সঠিক করবেন। বানান ভুল হলে আপনি হাসির পাত্র হয়ে যেতে পারেন। অনেকে আছে যারা তাদের পন্য কে অন্যান্য পন্যের চেয়ে অনেক বেশী ভালো বোঝাতে চাই। তবে আমি রিকোমেন্ড করবো আপনি বেশি ভালো বলে আপনার পন্য চালাবেন না। একজন কাস্টমারের ভালো লাগলে এমনিই আরোও কাস্টমার চলে আসবে।

 

স্টেপ ৪: টেক্সট এবং ফটো ছাড়াও ভিডিওর মাধ্যমে পন্যের অনেক প্রচার করা যায়। আপনি একটি সুন্দর ভিডিওর মাধ্যমে আপনার পন্যের রিভিউ করে প্রচার করতে পারেন। এটি খুবই কার্যকরী পন্থা। তবে খেয়াল রাখবেন ভিডিওতে ব্যবহার করা ভয়েস এবং ভাষা যেন শুদ্ধ হয় এবং ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ যেনো কম থাকে। আপনি চাইলে সরাসরি নিজের ফেস ক্যামেরাই এনে ভিডিও করতে পারেন। তবে আপনার ক্যামেরা কোয়ালিটি এবং ব্যাকগ্রাউন্ড ভালো না হলে হোয়াইট বোর্ড অ্যানিমেশন ভিডিওর মাধ্যমে রিভিউ করতে পারেন। এরকম ভিডিও অনেকে পছন্দ করে এবং তাড়াতাড়ি ভাইরাল হয়।

এই স্টেপ গুলা ফলো করলে আশাকরি আপনার কিছুটা উপকার হবে। আমি যথাসম্ভব সহজ সরল ভাবে স্টেপ গুলা বর্ননা করেছি। ভালো মানের কন্টেন্ট তৈরি নির্ভর করবে আপনার বুদ্ধিমত্তার উপর। শেষে একটি কথাই বলতে চাই কন্টেন্ট যেহেতু ফেসবুক মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে অনেক ভুমিকা পালন করে তাই এর প্রতি একটু বেশিই নজর দেওয়া উচিত।

৪. প্রচার

আপনার পন্য বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য অবশ্যই পন্যের প্রচার প্রয়োজন। ফেসবুকের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে খুব সহজেই একটি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির অডিয়েন্স টার্গেট করে পন্যের প্রচার করা যায়। তবে এর জন্য আপনার টাকা প্রয়োজন। ফেসবুক দিয়ে প্রচার করতে হলে আপনার পেপাল অথবা ইন্টারন্যাশনাল ডেবিট কার্ড লাগবে। বর্তমানে পেপাল বাংলাদেশে ব্যবহার করা যায় না এবং ইন্টারন্যাশনাল ডেবিট কার্ড প্রায় মানুষের কাছে থাকে না। অতএব আমাদের অনেক ভোগান্তির শিকার হতে হয়। তবে যাদের কাছে পেপাল বা ডেবিট কার্ড আছে তারা পন্যের প্রচার করে দেই। এর জন্য তারা সহজ মাধ্যম যেমন বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদির মাধ্যমে পেমেন্ট নেই। আপনি এমন এক লোকের কাছ থেকে পন্যের প্রচার করিয়ে নিতে পারেন। তবে অবশ্যই কনফার্ম হয়ে নিবেন যে লোকটি যেনো ট্রাস্টেড হয়। আবার আপনি স্পন্সর দিয়ে পন্যের বহুল প্রচার করতে পারেন। এর জন্য আপনাকে একটি নির্দিষ্ট গ্রুপ অথবা পেজ টার্গেট করতে হবে। তবে দেখে নিতে হবে যে সেই পেজ বা গ্রুপের রিচ অনেক বেশি কি না এবং আপনাকে এমন পেজ অথবা গ্রুপ বাছতে হবে যা আপনার পন্যের সাথে সম্পর্কিত। এরপর সেই পেজ অথবা গ্রুপ প্রধানের সাথে কথা বলে ডিল ফিক্সড করতে হবে। কত টাকা নেবে সেটা সেই পেজ অথবা গ্রুপের প্রধানের উপর নির্ভর করবে। এভাবে পন্যের বহুল প্রচার হয়। তবে পন্য প্রচার করার আগে অবশ্যই দেখে নিবেন যে আপনি যেই পোস্টটি প্রচার করছেন সেটাই যেনো আপনার পন্য সম্পর্কে সব কিছু বোঝানো থাকে।

৫. ডিল

আরেকটি গুরুত্বপুর্ন টপিক নিয়ে এখন আলোচনা করবো। আপনাদের প্রশ্ন হতে পারে কাস্টমারের কাছ থেকে পেমেন্ট কিভাবে নেবেন এবং পন্য কিভাবে বিক্রি করবেন। সাধারণত বেশিরভাগ ফেসবুক মার্কেটার ম্যাসেন্জারের মাধ্যমে অনলাইনে ব্যবহার যোগ্য পন্য গুলো বিক্রি করে। ম্যাসেন্জার বা হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে আপনি সরাসরি কাস্টমারের সাথে কথা বলে ডিল ফিক্সড করতে পারেন। আবার আরেকটি প্রশ্ন থেকে যায় যে পেমেন্ট কিভাবে নেবেন।

পেমেন্ট কোন ম্যাথডে নেবেন সেটা আপনার পন্যের উপর নির্ভর করবে। আপনি যদি ইন্টারন্যাশনাল টাইপের পন্য বিক্রি করেন তাহলে পেপাল, ডেবিট কার্ড, বিটকয়েন, পেইজা, ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন, স্ক্রিল ইত্যাদি পেমেন্ট ম্যাথড রাখতে পারেন। আবার বাংলাদেশের কাস্টমারদের টার্গেট করে পন্য বিক্রি করতে চাইলে বিকাশ, রকেট, নগদ, ব্যাংক ট্রান্সফার ইত্যাদি পেমেন্ট ম্যাথড রাখতে পারেন। যদি বাংলাদেশ এবং ইন্টারন্যাশনাল উভয় কাস্টমার টার্গেট রাখেন তাহলে কিছু বাংলাদেশের এবং কিছু ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট ম্যাথড রাখতে পারেন। যদি একটি বা দুইটি দেশের কাস্টমার টার্গেট রাখেন তাহলে দুই দেশের পেমেন্ট ম্যাথড রাখতে পারেন। অনলাইনে ব্যবহার যোগ্য পন্য গুলো সাধারণত মুখোমুখি ডিল করা হয় না। এর জন্য সরাসরি যার কাছ থেকে ক্রয় করা হয় তাকে সরাসরি টাকা দিয়ে জিনিস কিনতে হয়। এর জন্য কাস্টমার এরকম পন্যের উপর ভরসা রাখে না। তবে এর জন্য বেচা কেনা কমে যাবে তা কিন্তু নয়। আপনি যদি নিষ্ঠার সাথে কাজ করেন তাহলে দেখবেন সয়ংক্রিয় ভাবে আপনার কাস্টমার বেড়ে যাবে।

 

কিভাবে ফেসবুক মার্কেটিং শুরু করবেন?
ফেসবুক মার্কেটিং শুরু করতে হলে প্রথমে আপনাকে কিছু টাকা পুঁজি রাখতে হবে। এরপর ভালো মানের পন্য বাছাই করতে হবে। এবং এরপর ভালো ভালো কন্টেন্ট, প্রচার ইত্যাদির মাধ্যমে পন্য প্রচার করা শুরু করতে হবে। ফেসবুক মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে সবথেকে বেশি প্রয়োজন মার্কেটিং স্ট্র্যাটিজি এবং ধৈর্য্য। আপনি যদি নিষ্ঠার সাথে ফেসবুকে ব্যবসা শুরু করেন তাহলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। কিছু অসাধু মানুষের কারনে ফেসবুকে ক্রয় বিক্রয় অনেক কমে গিয়েছে। তাই আমি মনে করি এমন কিছু বিক্রি করা উচিত হবে না যার দাম অনেক বেশি। এতে অনেকে পন্য কিনতে ভয় পায়। তাই একটি সাধারণ মূল্যের পন্য বেছে নিয়ে বিক্রি করতে শুরু করে দিন। তবে অবশ্যই প্রথমেই পিছু পা হবেন না। অনেকে আছে যারা নতুন ফেসবুক মার্কেটিং শুরু করে কাস্টমার না পাওয়ার কারনে সরে দাড়ায়। এমনটা করা কখনই উচিত না। অনলাইনের ক্ষেত্রেও কোনো কিছু পেতে হলে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। অতএব প্রথমেই পিছু পা হওয়া ঠিক নয়। এরপর প্রচারের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা বাড়াতে হবে।

 

ফেসবুক মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের গুরুত্ব।

ফেসবুক মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে ওয়েবসাইট অনেক বেশি ভুমিকা পালন করে। আপনার যদি একটি ওয়েবসাইট থাকে তাহলে অনলাইনে বেচার যোগ্য পন্য গুলো আপনি সরাসরি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিক্রি করতে পারবেন। এর ফলে আপনার বেশি খাটনি হবে না এবং আপনাকে সবসময় এক্টিভ থাকতে হবে না। তাছাড়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সরাসরি পেমেন্ট করা যায় তাই আপনাকে পেমেন্ট নেওয়ার জন্য আলাদা করে সময় দিতে হবে না। অনেকে মনে করতে পারেন ফেসবুক মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে ওয়েবসাইট কেন দরকার। আচ্ছা ফেসবুক মার্কেটিং মুলত কি? আসলে আমরা ফেসবুকের মাধ্যমে পন্যের প্রচার করি বিক্রি করি না। ধরুন আমি ফেসবুকে কোনো পন্য বিক্রি করবো না। এমনি সেলিব্রেটি হওয়ার জন্য ফেসবুকে ভালো ভালো কন্টেন্ট শেয়ার করবো। এটাও কিন্তু ফেসবুক মার্কেটিং। অপরদিকে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পন্যের বিক্রি এবং প্রচার দুটোই করা যায়। এখন আপনার মনে একটা প্রশ্ন জাগতে পারে যে ফেসবুকের মাধ্যমে যদি আপনি ওয়েবসাইটের কোনো লিংক শেয়ার করেন বা বুস্ট করেন তাহলে কি সেটা ফেসবুক মার্কেটিং এর অন্তর্ভুক্ত হবে? হ্যা এটাও ফেসবুক মার্কেটিং এর অন্তর্ভুক্ত হবে কারন একটু আগেই আমি বলেছি ফেসবুক মার্কেটিং মানেই যে পন্য বিক্রি করা তা কিন্তু নয়। ফেসবুক মার্কেটিং এর মুল ভিত্তি হলো প্রচার। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনি পন্য বিক্রি করবেন এবং ফেসবুকের মাধ্যমে প্রচার করবেন। তাই ওয়েবসাইট এবং ফেসবুক মার্কেটিং এক করা উচিত নয়। তবে দুটির কম্বিনেশন করলে অনেক ভালো ফল পাওয়া যায়। একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনি পন্য বিক্রি করার সাথে সাথে সেই পন্যের অনেক ভালো উপস্থাপন করতে পারবেন। তাছাড়া ওয়েবসাইট আপনার অনেক সময় বাচাবে।

বাজেট সংক্রান্ত সমস্যা

ফেসবুক মার্কেটিং শুরু করবেন ভাবছেন কিন্তু বাজেট কত রাখবেন? ফেসবুক মার্কেটিং করতে গেলে আপনাকে অনেক খরচ করা লাগবে। কিন্তু সেই খরচ কি অনেক বেশি না কম? এখন চলুন আলোচনা করি ফেসবুক মার্কেটিং করতে গেলে বাজেট কত রাখতে হবে।

ফেসবুক মার্কেটিং করতে গেলে প্রথমেই আপনাকে পন্য কিনতে হবে। অনলাইনে ব্যবহার যোগ্য পন্যের ক্ষেত্রে দাম একটু কম পড়বে। তবে বাস্তব জীবনে ব্যবহার যোগ্য পন্যের ক্ষেত্রে দাম অনেক বেশি পড়বে। আবার বাস্তব জীবনে ব্যবহার যোগ্য পন্য আপনাকে ডেলিভারি দিতে হবে যার জন্য আলাদা খরচ হবে। এবার আপনার প্রয়োজন একটি ওয়েবসাইটের। বর্তমানে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে অনেক সুন্দর সুন্দর ওয়েবসাইট তৈরি করা যায় তবে এর জন্য একজন প্রফেশনাল লাগবে। অতএব আপনাকে টাকা দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করে নিতে হবে। এরপর আপনার প্রয়োজন সুন্দর সুন্দর কন্টেন্ট। বর্তমানে অনেকে কিছু টাকার বিনিময়ে সুন্দর সুন্দর পোস্টার তৈরি করে দেই। আপনি তাদের কাছ থেকে পোস্টার তৈরি করে নিতে পারেন। নিজে পারলে তো আরো ভালো হবে। এরপর আপনার প্রয়োজন প্রচার। নিজস্ব পেমেন্ট ম্যাথড থাকলে শুধু ডলার কিনে পোস্ট বুস্ট করতে পারেন। যদি না থাকে তাহলে কারোর কাছ থেকে কিছু টাকার বিনিময়ে পোস্ট বুস্ট করিয়ে নিতে পারেন। সাধারণত এই খরচ গুলোই ফেসবুক মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে হয়। আপনি এগুলোর উপর মোটামুটি ধারনা নিয়ে বাজেট নির্ধারণ করতে পারেন।

 

ফেসবুক মার্কেটিং এর কিছু কিলার টিপস

এবার আমরা এমন কিছু টিপস নিয়ে আলোচনা করবো যেগুলো অনুসরন করলে অনেক ভালো ফল পাবেন। চলুন টিপস গুলো দেখে নিই:-

  • যদি প্রথম ব্যবসা শুরু করেন তাহলে বেশি বেশি ডিসকাউন্ট অফার দিন। এতে কাস্টমার কিছুটা হলেও বাড়বে।
  • ওয়েবসাইট থাকলে ওয়েবসাইটে আলাদা করে আফিলিয়েট পেজ রাখুন। এর ফলে প্রচার কিছুটা হলেও বাড়ে।
  • কন্টেন্ট অবশ্যই সুন্দর করবেন এবং পোস্ট করার সময় কোনো প্রকার কঠিন ভাষা বা বানান ভুল করা যাবে না।
  • ওয়েবসাইট থাকলে ওয়েবসাইটের ডিজাইন সিম্পল করুন। বেশিরভাগ কাস্টমার সিম্পল ডিজাইনের ওয়েবসাইট বেশি পছন্দ করে।
  • সঠিক নিয়মে পোস্ট বুস্ট করুন। পোস্ট বুস্ট করার সময় অডিয়েন্স আপনার পন্য অনুযায়ী টার্গেট করবেন।
  • স্পন্সর দিন। স্পন্সর দিলে পন্যের বহুল প্রচার হয়। তবে আপনার পন্য সম্পর্কিত চ্যানেল গুলোকে স্পন্সর দিন।
  • কাস্টমারের সাথে সুন্দর আচরন করুন। কাস্টমার যে প্রশ্নই করুক না কেনো, কখনো বিরক্ত হবে না। সুন্দর আচরণ করলে কাস্টমার আরোও বিশ্বস্ত মনে করে।

এই ছিলো আমাদের কিছু টিপস যেগুলো আপনার অনুসরন করা উচিত।

ফেসবুক মার্কেটিং সম্পর্কে আমাদের শেষ কথা

বর্তমানে সকল কাস্টমার দিন দিন ডিজিটাল হয়ে যাচ্ছে। একটু খেয়াল করলে দেখবেন বর্তমানে আশেপাশে অনেকে অনলাইনে পন্য কেনা বেচা করছে। ফেসবুকের মাধ্যমেও অনেকে পন্যের কেনা বেচা করে। বর্তমানে প্রচুর লোক ফেসবুক ব্যবহার করে তাই এখানে সহজেই অনেক কাস্টমার পাওয়া যায়। অতএব ফেসবুক মার্কেটিং করলে সহজে লাভবান হওয়া যায়। তাই কিছু বাজেট বরাদ্দ করে ফেসবুক মার্কেটিং শুরু করতে পারেন।

 

এই ছিলো আমাদের ফেসবুক মার্কেটিং সম্পর্কিত গাইডলাইন। যদি ফেসবুক মার্কেটিং সম্পর্কে কোন ধরনের প্রশ্ন থাকে তাহলে কমেন্টে লিখে পাঠিয়ে দিন। চাইলে আমাদের যোগাযোগ পেজের মাধ্যমে আপনার মতামত জানাতে পারেন। আমরা কম টাকাই অনেক সুন্দর ব্লগার ওয়েবসাইট ডিজাইন করি। যদি আপনার ব্লগার ওয়েবসাইট ডিজাইন করতে চান তাহলে আমাদের ফেসবুক পেজের মাধ্যমে যোগাযোগ করুন। সবাই ভালো থাকবেন।

আল্লাহ হাফিজ।

Leave a Comment