ফেসবুক মার্কেটিং ব্যাসিক টিপস। ফেসবুক মার্কেটিং সিরিজ ( পর্ব-১ )

 

ফেসবুক মার্কেটিং



শুরুর কথা


হ্যালো গায়েজ। আশাকরি সবাই ভালো আছেন। আজকে আবারো একটি টিউটোরিয়াল নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হলাম। আজকে আমাদের আলোচিত বিষয়ে থাকছে ফেসবুক মার্কেটিং এর ব্যাসিক টিপস। যারা ফেসবুক মার্কেটিং করবেন ভাবছেন তাদের জন্য এই টিউটোরিয়াল আশাকরি কাজে আসবে। দেরি না করে চলুন শুরু করি।


ফেসবুক মার্কেটিং এর ব্যাসিক ধারণা।


বর্তমানে সোশ্যাল মার্কেটিং এর দুনিয়ায় ফেসবুক রাজত্ব করছে। বর্তমানে সবথেকে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক। মিলিয়ন মিলিয়ন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এখন ফেসবুক ব্যবহার করছে। বর্তমানে ফেসবুক বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ থাকায় এখানে অনেকে ব্যবসা শুরু করেছে। একেই ফেসবুক মার্কেটিং বলে। বর্তমানে সবথেকে জনপ্রিয় সোশ্যাল মার্কেটিং ফেসবুক মার্কেটিং। 

খুব সহজেই ফেসবুকে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করা যায়। যেহেতু ফেসবুকে অডিয়েন্স পেতে তেমন কষ্ট হয় না তাই খুব সহজেই মার্কেটিং করে সফলতা পাওয়া যায়। তবে ফেসবুক মার্কেটিং করতে হলে কিছু স্কিল ডেভলপমেন্ট করা লাগবে। আমরা আমাদের ফেসবুক মার্কেটিং পর্বে সবকিছু তুলে ধরার চেষ্টা করবো। 

আজকে আমরা আলোচনা করবো ফেসবুক মার্কেটিং এর কিছু ব্যাসিক টিপস। দেরি না করে চলুন শুরু করি।
ফেসবুক মার্কেটিং ব্যাসিক টিপস
টিপস গুলো আলোচনা করার আগে আমাদের কিছু জেনে নেওয়া দরকার। ফেসবুক মার্কেটিং করতে হলে অবশ্যই মনস্থির করে শুরু করতে হবে। 

এখানে আপনাকে ধৈর্য্য ধরে কাজ করতে হবে। অনলাইন জগতে কোনো কিছু সহজে হয় না। বিশেষ করে আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। অনলাইনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে একটি কাজকে আকড়ে ধরতে হবে। আপনি কখনই কাজ পরিবর্তন করলে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবেন না। অবশ্যই ধৈর্য্য ধরবেন ফেসবুক মার্কেটিং করতে গেলে কয়েক সময় ব্যর্থ হতে পারেন। তবুও ধৈর্য্য ধরে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাবেন। ইনশাল্লাহ সফলতা পাবেন। অনেক বকবক করে ফেললাম হয়তো। আর দেরি নয় চলুন শুরু করি।


ফেসবুক মার্কেটিং ব্যাসিক টিপস।


১. পেজ


আপনার ফেসবুক মার্কেটিং এর জন্য একটি মাধ্যম দরকার। অবশ্যই ফেসবুক পেজ তার জন্য ভালো মাধ্যম। আপনি ফেসবুক পেজে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা পেয়ে যাবেন যা আপনার মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে অনেক সাহায্য করবে। তবে ফেসবুক পেজে লাইক এবং ফলোয়ার পাওয়া অনেক কঠিন। আবার পেজ গুলোকে কেও তেমন গুরুত্ব দেই না। তাই আমাদের ফেসবুক পেজের পাশাপাশি আরেকটি মাধ্যম প্রয়োজন। কি মাধ্যম বলতে পারবেন? সেই মাধ্যমের নাম ফেসবুক গ্রুপ।


২. ফেসবুক গ্রুপ


ফেসবুক গ্রুপ কে মনে করা হয় বর্তমান পৃথিবীর সবথেকে শক্তিশালী সোশ্যাল কমিউনিটি। ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে খুব সহজেই একটি শক্তিশালী কমিউনিটি তৈরি করা যায়। ফেসবুক মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে ফেসবুক গ্রুপ কেনো সেরা মাধ্যম? ফেসবুক পেজ হলো একমুখী মিডিয়া অর্থাৎ এখানে আপনি ছাড়া অন্য কেও নিজের মতামত শেয়ার করতে পারবে না। অপরদিকে ফেসবুক গ্রুপ একটি বহুমুখী মিডিয়া যেখানে সবাই নিজের মতামত, প্যাশন, স্টাইল, পার্সোনালিটি শেয়ার করতে পারে। তাই ফেসবুক গ্রুপে সবাই বেশিরভাগ সময় এক্টিভ থাকে। অতএব ফেসবুক গ্রুপে আপনার পন্যের বিক্রয় অনেক ভালো হবে।


৩. পন্য বেছে নেওয়া


কিভাবে সঠিক পন্য বেছে নিবেন? এর জন্য আপনাকে একটু চিন্তা করতে হবে। বর্তমানে ফেসবুকে ১৮-২৫ বছর বয়সের লোক সবথেকে বেশি। অর্থাৎ আপনি যদি যুবক মানুষদের পন্য বিক্রি করেন তাহলে সেক্ষেত্রে বেশি লাভ হবে। আবার পন্য একটু ইউনিক এবং স্টাইলিশ হতে হবে। যেহেতু এখনকার বেশির যুবক স্টাইলীশ এবং ফ্যান্সি পোশাক বেশি পছন্দ করে। সেখানে আপনি যদি কম এবং সব জায়গায় পাওয়া যায় এমন পন্য বিক্রি করতে যান তাহলে কেও কিনবে না কিনলেও খুব কম মানুষে কিনবে। এখন আপনাকে এমন পন্য বেছে নিতে হবে যা ইউনিক এবং চাহিদা অনেক বেশি। যদিও এমন পন্য পাওয়া এখন কঠিন হয়ে গিয়েছে। 

৪. উপস্থাপন


পন্য বেছে নেওয়ার পর আপনাকে উপস্থাপন করা লাগবে অর্থাৎ আপনার পন্যের বিশেষত্ব কি, কেমন দেখতে, ইউনিক কি না ইত্যাদি বিশ্লেষণ করে কাস্টমারদের জানাতে হবে। আপনি তিন ভাবে কাস্টমারদের আপনার বোঝাতে পারেন। চলুন দেখে নিই কিভাবে পন্যের রিভিউ করবেন।


ক. টেক্সট
আপনি চাইলে আপনার পন্যের রিভিউ লেখনীর মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারেন। তবে বর্তমানে ফেসবুকে অনেকেই লেখা পড়ে না। তাই এটি তেমন কাজের না। তবুও লেখনীর মাধ্যমে আপনার পন্যের সবকিছু তুলে ধরতে পারেন। কিছু কিছু লোক লেখা পড়েই পন্যের যাচাই করতে পারে।


খ. ভিডিও
আপনার পন্যের সুনির্দিষ্ট রিভিউ ভিডিওর মাধ্যমে সবথেকে ভালো ভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন। আপনি আপনার ভয়েসের মাধ্য
মে আপনার পন্য সম্পর্কে সবাইকে অবগত করতে পারেন। অনেকেই ফেসবুকে ভিডিও দেখে থাকে। সেখানে আপনার ভিডিও গুলোও দেখবে। অনেক কাস্টমার পন্যের রিভিউ দেখে সেটি কিনতে চাই। নিজের ভয়েস দিয়ে পন্যের রিভিউ করার সবসময় চেষ্টা করবেন।


গ. পিকচার
ফেসবুকে পন্য প্রচার করার সবথেকে বেস্ট মাধ্যম হলো পিকচার। আপনি যদি পিকচারের মাধ্যমে আপনার পন্যের মোটামুটি পরিচয় তুলে ধরতে পারেন তাও অনেকেই আপনার পন্য সম্পর্কে অবগত হবে। একটি সমীক্ষা অনুযায়ী ফেসবুকে ভিডিও এবং টেক্সট ছাড়া পিকচার সবথেকে বেশি লোক দেখে। অর্থাৎ পন্য প্রচারের ক্ষেত্রে পিকচার অনেক কাজে আসে।
এই তিনটি পদ্ধতিতে আপনি ফেসবুকে আপনার পন্যের উপস্থাপন করতে পারবেন। সবথেকে জরুরী হলো আপনার পন্যের উপস্থাপন। আপনার পন্য সম্পর্কে কাস্টমার যতো জানবে তার ক্রয় করার আগ্রহ তত বেড়ে যাবে।


৫. রেসপন্স


পন্য বিক্রির ক্ষেত্রে প্রধান যে বিষয় লক্ষ রাখতে হবে তা হলো রেসপন্স। আপনি যত তাড়াতাড়ি কাস্টমারের প্রশ্নের জবাব দিবেন তত সেই কাস্টমারের আপনার পন্য কেনার আগ্রহ বেড়ে যাবে। অবশ্যই আপনি নতুন ব্যবসা শুরু করলে রেসপন্স তাড়াতাড়ি দিতে হবে। এক্ষেত্রে নিজে সবসময় এক্টিভ থাকা সম্ভব হয় না। সুখবর হলো ফেসবুক পেজে আরেকটি এডমিন যুক্ত করা যায় যে কাস্টমারের প্রশ্নের জবাব দিতে পারবে। আপনি এমন একজনকে রেখে দিতে পারেন।



আমাদের শেষ কথা:


বর্তমানে ফেসবুকে হাজার হাজার ব্যবসা চালু আছে। সেখান প্রত্যেক দিন হাজার পন্য বিক্রি হয়। বর্তমানে ফেসবুক একটি জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেসে পরিণত হয়েছে। এখানে আপনি যদি ব্যবসা শুরু করতে চান নিঃসন্দেহে সফল হবেন। তবে ধৈর্য্য এবং কিছুটা অভিজ্ঞতা থাকলেই চলবে। আমাদের ফেসবুক মার্কেটিং পর্বে সবকিছু তুলে ধরার সম্পুর্ন চেষ্টা করবো। আজ আমরা ব্যাসিক বিষয় গুলো নিয়ে আলোচনা করলাম। পরবর্তীতে এগুলোর বিশদ আলোচনা করা হবে। ততদিন আমাদের সাথে থাকুন।


আল্লাহ হাফিজ।

Leave a Comment