ফ্রিল্যান্সিং কি? আল্টিমেট ফ্রিল্যান্সিং গাইড গাইডলাইন

 

ফ্রিল্যান্সিং



বর্তমানে অনলাইন ইনকামের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং সবথেকে বেশি জনপ্রিয়। অনলাইনে একটি বিষয়ের উপর অভিজ্ঞ হলেই ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করা যায়। তাছাড়া এর সুবিধাও অনেক। আজ আমরা ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ক সকল প্রশ্নের উত্তর এবং ফ্রিল্যান্সিং গাইডলাইন নিয়ে আলোচনা করবো।


ফ্রিল্যান্সিং কি?

ফ্রিল্যান্সিং বিষয়টি বোঝার জন্য একটি উদাহরণ দেখে নিই চলুন। ধরুন অ্যামেরিকার একজন লোক একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট খুলবে। এখন সেখানকার ওয়েব ডেভেলপার দের দিয়ে যদি সে ওয়েবসাইট খুলতে যায় তাহলে অবশ্যই বেশি টাকা লাগবে। এখন প্রশ্ন হতে পারে বেশি টাকা কেনো লাগবে? যেহেতু অ্যামেরিকা একটি ধনী দেশ তাই সেখানে জীবনযাত্রার মান উন্নত। অর্থাৎ সেখানে কর্মচারীদের বেতন অনেক বেশি। এখন সেই লোক যদি আমাদের দেশ বা অন্যান্য দেশের কর্মচারীদের হায়ার করে যেখানে জীবনযাত্রার মান কম উন্নত তাহলে কম টাকা লাগবে। যেহেতু আমাদের জীবনযাত্রার মান ততটা উন্নত নয়। এখন যে লোকটি অন্যান্য দেশ থেকে সার্ভিস নিচ্ছে সেটি হলো আউটসোর্সিং এবং যে অন্য দেশ থেকে সার্ভিস দিচ্ছে সেটি হলো ফ্রিল্যান্সিং। আশাকরি ফ্রিল্যান্সিং বিষয়টা ক্লিয়ার হয়েছে।



ক্লায়েন্ট কারা?

যারা ফ্রিল্যান্স্যার দের কাজ দেয় তাদেরকে ক্লায়েন্ট বলে। আগের উদাহরণ থেকে যে ই-কমার্স ওয়েবসাইট খোলার জন্য কর্মচারী হায়ার করছে সে ক্লায়েন্ট।



ফ্রিল্যান্স্যার কারা?

যে একজন ক্লায়েন্টের কাজ করে দেবে সে ফ্রিল্যান্স্যার। একটু আগে যে উদাহরণ দেখলাম সেখানে যে সার্ভিস দিচ্ছে সে হলো ফ্রিল্যান্স্যার।



মার্কেটপ্লেস কি?

যে মাধ্যম ক্লায়েন্ট এবং ফ্রিল্যান্স্যারদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে তাকে মার্কেটপ্লেস বলে। অর্থাৎ মার্কেটপ্লেস একটি মাধ্যম যেখানে একজন ফ্রিল্যান্স্যার কাজ পেতে পারে আবার একজন ক্লায়েন্ট কাজ দিতে পারে।




মার্কেটপ্লেস গুলো কিভাবে সংযোগ স্থাপন করে?

এটি একটি চেইন প্রক্রিয়া। চলুন স্টেপ বাই স্টেপ যেনে নি মার্কেটপ্লেস গুলো কিভাবে একজন কাস্টমার এবং ফ্রিল্যান্স্যারের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে।

  • প্রথমে একজন কাস্টমার তার কাজ মার্কেটপ্লেসে ছাড়ে।
  • এরপর বিভিন্ন ধরনের ফ্রিল্যান্স্যার যারা সেই কাজটি করতে পারবে তারা বিড করে অর্থাৎ কাজের জন্য এপ্লাই করে।
  • যারা কাজের জন্য এপ্লাই করেছে তাদের প্রোফাইল দেখে একজন বায়ার একটি ফ্রিল্যান্স্যার হায়ার করে।
  • এরপর সেই ফ্রিল্যান্স্যারের কাজের মুল্য মার্কেটপ্লেসে জমা থাকে।
  • কাজ শেষ হওয়ার পর মার্কেটপ্লেসটি কিছু কমিশন রেখে সেই ফ্রিল্যান্স্যারকে বাকি টাকা দিয়ে দেই।

সাধারণত এভাবেই মার্কেটপ্লেস গুলো কাজ করে।



কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন?

ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার জন্য প্রথমেই প্রয়োজন ধৈর্য্য এবং কাজ করার ইচ্ছা। অনেকেই বলে মোবাইল দিয়েই ফ্রিল্যান্সিং সম্ভব। হ্যা মোবাইল দিয়েও সম্ভব কিন্তু কিছু ভারি ভারি কাজ থাকে যেগুলো মোবাইল দিয়ে করা সম্ভব নয়। যেমন ধরুন কাওকে একটি অ্যাপ তৈরি করে দিতে হবে। এখন মোবাইল দিয়ে কখনই একটি ভালো মানের অ্যাপ তৈরি করা সম্ভব নয়। আবার গ্রাফিক্স ডিজাইনের ক্ষেত্রে মোবাইল দিয়ে সুন্দর ভাবে ডিজাইন করা যায় না। মোবাইলে তেমন কোনো ফিচার পাওয়া যায় না তাই মোবাইল দিয়ে ভালো ভাবে ফ্রিল্যান্সিং করা সম্ভব নয়। অর্থাৎ আপনার একটি ভালো মানের পিসি বা ল্যাপটপ প্রয়োজন। তবে আমি সাজেস্ট করবো বাড়ি বসে কাজ করলে পিসি কেনার। ল্যাপটপে আপনি তেমন পারফরমেন্স পাবেন না আর ল্যাপটপের দামও অনেক বেশি। আবার ল্যাপটপ দিয়ে আপনি ভারি ভারি কাজ করতে পারবেন না। ল্যাপটপের একটিই সুবিধা হলো আপনি এটিকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যেতে পারবেন। অপরদিকে পিসি কিনলে দাম অনেকটাই কম পড়বে আবার ভারি ভারি কাজ গুলো অনেক সহজেই করা যাবে। তবে পিসি আপনি সব জাগায় নিয়ে যেতে পারবেন না। আবার আরেক দিক থেকে দেখলে ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে কোথাও যাওয়া লাগে না। অর্থাৎ পিসি কেনাই সবথেকে ভালো হবে। এবার আপনার প্রয়োজন ইন্টারনেট। এখন কেও তো আপনাকে অফলাইনে অর্ডার দেবে না তাই ইন্টারনেট কানেকশন অবশ্যই লাগবে। তবে সেলুলার ইন্টারনেট ব্যবহার করলে খরচ অনেক বেশি পড়বে তাই ওয়াইফাই ( ওয়ারলেস ফেডালিটি ) ব্যবহার করাই ভালো। এবার সবথেকে গুরুত্বপুর্ন বিষয় হলো আপনাকে কাজ শেখা লাগবে। এখন ফ্রিল্যান্সিং জবের মধ্যে প্রচুর কাজ আছে। আপনি কোনটা সহজে পারবেন সেটা বেছে নিয়ে কাজ শুরু করতে হবে। আপনি কোন কাজটি সহজে পারবেন সেটা বেছে নিয়ে একটি কোর্স করতে পারেন। বর্তমানে অনলাইনে প্রচুর ফ্রি এবং পেইড কোর্স আছে। পেইড কোর্স গুলো কিনে নিতে হবে। এবার সবথেকে গুরুত্বপুর্ন বিষয় হলো ইংরেজী শেখা। বেশিরভাগ ফ্রিল্যান্সিং জবের দিকে যদি খেয়াল করেন তাহলে দেখবেন যারা কাজ দিয়েছে তারা অন্য দেশের বিশেষ করে ইউরোপিয়ান।আর ইউরোপের দেশ গুলোর প্রধান ভাষা ইংরেজি। তাছাড়া ইংরেজী বর্তমানে ইন্টারন্যাশনাল ভাষা অর্থাৎ ইউরোপের দেশ গুলো ছাড়াও অন্যান্য দেশের লোকেদের সাথে কথা বলতে হলে আপনাকে ইংরেজি শেখায় লাগবে। বর্তমানে অনলাইনে ইংরেজী শেখা নিয়ে প্রচুর কোর্স আছে। আমি রবি টেন মিনিট স্কুলের দুইটি কোর্স সাজেস্ট করবো।

১. ইংলিশ গ্রামার ক্রাশ কোর্স।
২. মুনজিরিন সাহিদের ইংলিশ স্পোকেন কোর্স।
এই কোর্স দুটির মধ্যে প্রথম কোর্সটি আগে সম্পুর্ন করতে পারেন। কারন প্রথম কোর্সে ইংলিশের ব্যাসিক থেকে শুরু করে এডভান্স কোর্স করানো হয়েছে। আর দ্বিতীয় কোর্সটি ইংরেজিতে কথা বলা শেখার জন্য সম্পূর্ণ করতে পারেন। 


তবে কোর্স করলেই হবে না প্রয়োজন প্র্যাকটিস। ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন ভাবছেন এমন হলে প্রথমে এই কাজ গুলো কমপ্লিট করে ফেলুন।




কেনো ফ্রিল্যান্স্যার হবেন?


বর্তমানে চাকুরিজীবী লোকের থেকে ফ্রিল্যান্স্যারদের বেশি দাম এবং তাদের ইনকামও অনেক বেশি হয়। তাছাড়া একজন চাকরিজীবী লোকের থেকে একজন ফ্রিল্যান্স্যার অনেক বেশি সুযোগ সুবিধা পায়। 


এখন একজন ফ্রিল্যান্স্যার কি কি সুবিধা পায়? প্রথমত একজন চাকরিজীবী লোক চাকরি করার সময় নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করতে পারেনা কিন্তু একজন ফ্রিল্যান্স্যার তার ইচ্ছা মতো কাজ করতে পারে। আবার চাকরির ক্ষেত্রে আপনি মাস শেষে বেতন পাবেন কিন্তু একজন ফ্রিল্যান্স্যার যখন কাজ শেষ করে তার কয়েকদিন বা কয়েক ঘন্টার মধ্যেই টাকা পেয়ে যায়। 


আবার চাকরির ক্ষেত্রে পরিবারকে সময় দেওয়া যায়না যার কারনে পারিবারিক সমস্যা দেখা দেই কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং করার ক্ষেত্রে আপনি পরিবারকে অনেক সময় দিতে পারবেন। এছাড়াও আরোও অনেক সুবিধা আছে। আবার একটি প্রশ্ন সবার মনেই থেকে যায় যে ফ্রিল্যান্সিং এর যদি এতই এডভান্টেজ থাকে তাহলে সবাই ফ্রিল্যান্সিং কেনো করে না? দেখুন যদিও ফ্রিল্যান্সিং করলে অনেক সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায় কিন্তু এর জন্য অনেক খাটতেও হয়। 


যদি ভালো ভাবে একটি ফ্রিল্যান্সিং কাজ না পারেন তাহলে একদিনও টিকতে পারবেন না। অর্থাৎ ফ্রিল্যান্সিং সবার জন্য না। এর জন্য একটি নির্দিষ্ট ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে অভিজ্ঞ হওয়া লাগে। তাই সবাই ফ্রিল্যান্স্যার হতে পারে না।




কোন কাজটি করবেন?


বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং এর দুনিয়ায় প্রচুর কাজ আছে। যদি গুগলে ফ্রিল্যান্সিং জব নিয়ে সার্চ দেন তাহলে দেখবেন একটি লম্বা লিস্ট চলে আসবে। সেখান থেকে একটি কাজ বেছে নিয়ে শিখতে হবে এবং শেখার পর কাজ শুরু করে দিতে হবে। তবে সব কাজ জনপ্রিয় না। কিছু কাজ আছে যেগুলো খুবই কম পাবেন। তাই একটি জনপ্রিয় কাজ বেছে নিতে হবে। আবার বেশি জনপ্রিয় কাজের ক্ষেত্রে অসুবিধাও আছে। যে কাজটি বেশি জনপ্রিয় সেই কাজটি করতে হলে আপনাকে বেশি অভিজ্ঞ হওয়া লাগবে কারন আপনার মতো অনেক ফ্রিল্যান্স্যার সেই কাজটির পিছনে দৌড়াচ্ছে। আমি কিছু জনপ্রিয় কাজের লিস্ট তৈরি করেছি চলুন দেখে নিই।



১. ওয়েব ডেভলপমেন্ট

ফ্রিল্যান্সিং জবের মধ্যে এটি সবথেকে বেশি জনপ্রিয়। বর্তমানে ছোট বড় অনেক কোম্পানির বা একটি ওয়েবসাইট লাগে। ফ্রিল্যান্স্যাররা বেশিরভাগই অভিজ্ঞ হয় বলে তারা অনেক অভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্স্যার খুজে। বর্তমানে একটি দক্ষ ওয়েব ডেভেলপাররের দাম অনেক বেশি। এখন ওয়েব ডেভেলপার হতে হলে কোডিং সম্পর্কে প্রচুর ধারণা থাকা লাগবে। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের ওয়েব ডেভলপমেন্ট কোর্স আছে সেখান থেকে ওয়েব ডেভলপমেন্ট শিখতে পারেন।




২. গ্রাফিক্স ডিজাইন

আরেকটি জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং জবের মধ্যে গ্রাফিক্স ডিজাইন একটি। গ্রাফিক্স ডিজাইনের মধ্যে রয়েছে লোগো ডিজাইন, বিজনেস কার্ড, ব্যানার ডিজাইন, বিজ্ঞাপনের ব্যানার, বইয়ের কভার তৈরি ইত্যাদি। বর্তমানে অনেক কোম্পানির এসব জিনিস দরকার হয়। তাই তারা অভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্স্যার খোজে। এখন আপনি যদি একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে চান তাহলে ক্রিয়েটিভ হওয়া লাগবে। কারন একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার এবং আর্টিস্টের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। রবি টেন মিনিট স্কুলের গ্রাফিক্স ডিজাইন নিয়ে দুইটা কোর্স আছে সেই কোর্স গুলো সম্পুর্ন করতে পারেন।




৩. ডিজিটাল মার্কেটিং

বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটারের ফ্রিল্যান্সিং এর দুনিয়ায় অনেক দাম। ডিজিটাল মার্কেটিং এর মধ্যে আছে সোশ্যাল মার্কেটিং, এসইও ( সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন ), কমিউনিটি বেজড মার্কেটিং ইত্যাদি। এগুলোর মধ্যে এসইও সবথেকে বেশি জনপ্রিয়। তাছাড়া সোশ্যাল মার্কেটিংও অনেক জনপ্রিয়। খুব সহজেই ডিজিটাল মার্কেটিং শেখা যায়। আপনার যদি বিজনেস জ্ঞান থাকে তাহলে খুব সহজেই একজন ডিজিটাল মার্কেটার হতে পারবেন। বর্তমানে প্রচুর ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্স আছে। সেগুলোর একটি সম্পূর্ণ করে কাজে লেগে পড়ুন।



৫. ভিডিও ইডিটিং

বর্তমানে ভিডিও ইডিটরের কদর অনেক বেশি। বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সিং এর ক্ষেত্রে প্রচুর ভিডিও ইডিটিং কাজ রয়েছে। বর্তমানে অনেকের ওয়েবসাইট, চ্যানেল, পেজ ইত্যাদির জন্য ভিডিও ইডিটর প্রয়োজন হয়। ভিডিও ইডিটিং এর ক্ষেত্রেও বেশীরভাগই আপনার ক্রিয়েটিভিটির উপর নির্ভর করবে তবে কিছু কোর্স সম্পুর্ন করে নিজের স্কিল আরোও পাকাপোক্ত করতে পারেন।
এই ছিলো পাঁচটি জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং জব। এছাড়া আরোও অনেক জব আছে তবে এগুলোই বেশি জনপ্রিয়। আপনি এগুলোর মধ্যে যেকোনো একটিতে কাজ শিখতে পারেন এবং কাজ শিখে কাজ শুরু করে দিতে পারেন।




কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকাম করবেন?

এখন কাজ শেখা হয়ে গেলে আপনার প্রয়োজন একটি মাধ্যম যেখানে আপনি কাস্টমার পাবেন। এরকম মাধ্যম গুলোকে বলা হয় মার্কেটপ্লেস। একটু আগেই মার্কেটপ্লেস নিয়ে আলোচনা করেছি। বর্তমানে প্রচুর মার্কেটপ্লেস আছে। চলুন আমরা তিনটি জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে জেনে নেই।



১. আপওয়ার্ক

বর্তমানে সবথেকে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস হলো আপওয়ার্ক। বর্তমানে এখানে ৪০০ টিরও বেশি ক্যাটাগরির ফ্রিল্যান্সিং জব আছে। এখন প্রশ্ন হলো এটি কিভাবে কাজ এনে দেবে? এখানে কাজ পেতে হলে আপনাকে বিড করা লাগবে অর্থাৎ এপ্লাই করা লাগবে। একজন লোক একটি জব আপওয়ার্কে পোস্ট সেখানে প্রচুর লোক বিড করে। এবার যে জব পোস্ট করেছে সে একজন পারফেক্ট লোক দেখে তাকে কাজ দেই। এরপর কাজ দেওয়ার সাথে সাথে সেই কাজের মুল্য আপওয়ার্কের কাছে চলে যায়। সম্পুর্ন কাজে শেষ হওয়ার পর আপওয়ার্ক কিছু কমিশন রেখে বাকি টাকা যে কাজ করেছে তাকে দিয়ে দেই। এভাবেই আপওয়ার্ক থেকে ইনকাম হয়। এখানে একটি প্রশ্ন বেশিরভাগ লোক জানতে চাই যে যদি কাস্টমার কাজ দেওয়ার পর আর যদি খোজ না পাওয়া যায় তাহলে কি টাকা পাবো না? হ্যা পাবেন এক্ষেত্রে যদি কাস্টমার সাত দিন না রিপ্লাই দেই তাহলে সেই টাকা অটোমেটিক আপনার একাউন্টে যোগ হয়ে যাবে। এভাবেই আপওয়ার্ক থেকে কাজ করতে হয়।



২. ফাইবার

মাঝারি সাইজের ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য ফাইবার সবথেকে বেশি জনপ্রিয়। বর্তমানে ফাইবারে ৩.৪২ মিলিয়ন এক্টিভ কাস্টমার আছে। এখানে আপনি বিভিন্ন ধরনের ছোট বড় কাজ পেয়ে যাবেন। ফাইবারে তেমন বেশি সময় সাপেক্ষ কাজ থাকে না। সাধারণত ৫ ডলারের কাজ এখানে বেশি। তবে এখানে কাজ পাওয়ার সিস্টেম একটু আলাদা। এখানে একজন কাস্টমার জব পোস্ট করে না। এখানে একজন ফ্রিল্যান্স্যার তার গিগ প্রকাশ করে। এখন গিগ কি? গিগ হলো একজন ফ্রিল্যান্স্যার কি পারে, তার কাজের জন্য কত টাকা দেওয়া লাগবে ইত্যাদি বিষয়ক ইনফরমেশন। এবার একজন কাস্টমার সেই গিগ দেখে ফ্রিল্যান্স্যার খুজে তাকে কাজ দেই। ফাইবারের পেমেন্ট সিস্টেম আপওয়ার্কের মতোই।




৩. ফ্রিল্যান্স্যার.কম

এটিও একটি জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস। বর্তমানে এখানে ৩১ মিলিয়ন ইউজার রয়েছে। আপনি এখান থেকে ১৮০০ এর বেশি কাজের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে পারেন। তবে এখানে তেমন ইনকাম হয় না। আবার খুব বেশি জনপ্রিয়ও না। এখানেও কাজ পাওয়ার ধরন আপওয়ার্কের মতো। পেমেন্টও একই ভাবে পাবেন। আপওয়ার্ক এবং ফাইবারে একটু বেশি অভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্স্যার থাকে তাই এখানে আপনি প্রথম দিকে কাজ শুরু করতে পারেন। এটির একটা দিক ভালো লাগেনা তা হলো এখানে বিড ফ্রি দেই না অর্থাৎ কিনে কাজ করতে হয়।



এই তিনটাই সবথেকে বেশি জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস। এর মধ্যে যে কোন একটিতে কাজ শুরু করে দিতে পারেন। প্রত্যেকটি মার্কেটপ্লেসে সবথেকে বেশি প্রয়োজন নিজের ফ্রিল্যান্সিং প্রোফাইল। এখন আপনার সেটি নিয়েই আলোচনা করবো।




একজন ফ্রিল্যান্স্যারের প্রোফাইল কেমন হওয়া উচিত?

ফ্রিল্যান্সিং জব পাওয়ার ক্ষেত্রে সবথেকে বেশি ভুমিকা রাখে আপনার মার্কেটপ্লেস প্রোফাইল। যে আপনাকে কাজ দেবে সে আগে আপনার প্রোফাইল দেখে বুঝে নেবে আপনি কোন বিষয়ের উপর ভালো পারেন। বিশেষ করে ফাইবার মার্কেটপ্লেসে প্রোফাইল সবথেকে বেশি ভুমিকা পালন করে কেননা ফাইবারে ডাইরেক্ট ফ্রিল্যান্স্যার হায়ার করা হয়। অতএব আপনার মার্কেটপ্লেস প্রোফাইল অনেক গুরুত্বপুর্ন। চলুন দেখে নিই একটি প্রোফাইলে কি কি বিষয় থাকা উচিত।



১. টাইটেল

টাইটেলের উপর আপনি কোন বিষয়ে ভালো পারেন সেটা নির্ভর করবে। অর্থাৎ আপনাকে এমন ভাবে টাইটেল লিখতে হবে যেনো একটি বাক্যের মধ্যে আপনি কোন বিষয়ে ভালো পারেন সেটা আপনার ক্লায়েন্ট বোঝে। অতএব আপনার মার্কেটপ্লেস প্রোফাইল খুবই গুরুত্বপুর্ন।




২. ডিস্ক্রিপশন

টাইটেলেই যেহেতু আপনার কাজ সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া যাবে তাই ডিস্ক্রিপশনে আরোও বিস্তারিত লিখতে পারেন। তাছাড়া আপনি যে আপনার কাজকে ভালোবাসেন সে সম্পর্কে ক্লায়েন্ট কে বোঝাতে হবে।



৩. শিক্ষাগত যোগ্যতা

এটি তেমন গুরুত্বপুর্ন নয় তবে শিক্ষাগত যোগ্যতা আপনার প্রোফাইলে থাকলে ক্লায়েন্ট আপনার সমন্ধে আরোও জানতে পারবে। তাছাড়া এর প্রভাবে আপনার কাজ পাওয়ার চান্স অনেক বেড়ে যাবে।




৪. ভিডিও ডিস্ক্রিপশন

বর্তমানে এটি অনেক মার্কেটপ্লেসের প্রোফাইলে থাকে। আপনি আপনার কাজ সম্পর্কে একটি ছোট্ট ভিডিওর মাধ্যমে ক্লায়েন্ট কে আরোও বিস্তারিত বোঝাতে পারেন। এর প্রভাবে ক্লায়েন্ট আপনার এটিটিউড, স্কিল, কাজ করার ইচ্ছা সম্পর্কে অবগত হবে। তবে ভিডিও ডিস্ক্রিপশন বর্তমানে অনেক জরুরী হয়ে উঠেছে কারন এর দ্বারা আপনার কাজের কিছুটা পরিচয় পাওয়া যায়।




৫. পোর্টফোলিও

পোর্টফোলিও এমন একটি পেজ যেখানে আপনার সম্পুর্ন বায়োডাটা দেওয়া থাকবে। অর্থাৎ পোর্টফোলিওতে একজন ক্লায়েন্ট আপনার সমন্ধে সব কিছু জানতে পারবে। বর্তমানে মার্কেটপ্লেস গুলোতে আলাদা করে পোর্টফোলিও তৈরি করা যায়। তাছাড়াও আপনি আপনার নিজের জন্য পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন।



এগুলোর প্রতি খেয়াল রেখে আপনাকে একটি সুন্দর মার্কেটপ্লেস প্রোফাইল তৈরি করতে হবে। প্রোফাইল আপনার কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে সবথেকে বেশি ভুমিকা পালন করে। আপনার প্রোফাইল যত ভালো হবে কাজ পাওয়ার চান্স তত বেড়ে যাবে। অতএব প্রোফাইলের উপর নজর দেওয়া অনেক জরুরী।



ফ্রিল্যান্সিং কোথায় শিখবেন?

বর্তমানে অনেক জায়গায় ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিং সেন্টার গড়ে উঠেছে। সেখানে ভর্তি হয়ে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর কাজ শিখতে পারেন। তবে কিছু সেন্টার আছে যেখানে কাজ তো শেখানো হয়ই না তারপরে আবার ধোকা দেওয়ার চান্স থাকে। কিছু বিশ্বস্ত ট্রেনিং সেন্টার থেকে অনলাইনে বড় বড় ফ্রিল্যান্সিং কোর্স করতে পারেন। যেহেতু ফ্রিল্যান্সিং কোনো ছেলে খেলা নয় তাই ব্যাসিক জানলেই হবে না। আপনাকে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের এক্সপার্ট হওয়া লাগবে।




ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে ধোকা

বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং শিখতে গিয়ে অনেকেই ধোকা খায়। বিশেষ করে অনলাইন কোর্সের ক্ষেত্রে এমন ধোকা দেওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। অনেক অসাধু লোক আছে যারা কোর্সের নাম করে জনগণের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নেই এবং পরে কাজ শেখায় না। আবার আরেকটি মারাত্মক ভুল অনেকেই করে থাকে। বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং কাজ শেখানোর নাম করে স্প্যাম কাজ শেখানো হয়। বিশেষ করে একদম নতুন যারা, তারা এরকম ধোকাই পরে। 


নতুনদের ক্ষেত্রে অনেকেই মনে করে যে অনলাইনে চাইলেই খুব সহজে টাকা ইনকাম করা যায়। আসলে অনলাইন এবং আসল দুনিয়ার ক্ষেত্রে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। এখন স্প্যাম কাজ কি? স্প্যাম ফ্রিল্যান্সিং কাজ অনেক ধরনের হয়ে থাকে। ধরুন আপনাকে তারা একটি অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের নাম বললো যেখানে বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলে টাকা দেই। এখন একটি নির্দিষ্ট টাকা জমা হওয়ার পর আপনি সেই টাকা তুলতে পারবেন। 


কিন্তু পরে দেখলেন টাকা জমা হওয়ার পরেও আপনি আর টাকা তুলতে পারছেন না অর্থাৎ এখানে পরিশ্রম সম্পুর্ন জলে গেলো। আবার হতে পারে সেই অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ঐ কোম্পানির যেখানে আপনি ফ্রিল্যান্সিং শিখছেন। বোঝাই যাচ্ছে এক্ষেত্রে শুধু তাদেরই লাভ হবে। অর্থাৎ এরকম ধোকায় কখনো পড়া যাবে না। এর থেকে নিস্তার পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো একটি জনপ্রিয় এবং দীর্ঘদিন ধরে সেবা দিচ্ছে এমন কোম্পানির সাথে যুক্ত হওয়া। 


বর্তমানে টেন মিনিট স্কুল, বহুব্রীহি, ই-শিখন ইত্যাদি জায়গাতে আপনি কম খরচে একটি ভালো মানের কোর্স করে সবকিছু শিখতে পারবেন।




আমাদের শেষ কথা

ফ্রিল্যান্সিং একটি মুক্ত পেশা। আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী আপনি এখানে কাজ করতে পারবেন। অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং ক্যাটাগরির কোনো একটি কাজ পারলেই আপনি আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার তৈরি করতে পারেন। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রচুর তরুন তরুণী ফ্রিল্যান্সিং করে নিজের ক্যারিয়ার তৈরি করেছে। বিশেষ করে যাদের অনলাইন সমন্ধে ভালো জ্ঞান আছে কিন্তু তারা বেকার তাদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং বেকারত্ব দুর করে দিতে পারে। আবার এতে নিজের সাথে সাথে দেশের পক্ষেও অনেক ভালো কারন আপনি অন্য দেশ থেকে টাকা ইনকাম করে নিজের দেশে আনছেন।



তো আজকে এই পর্যন্তই। আমরা প্রত্যেক দিন আমাদের ওয়েবসাইটে গুরুত্বপুর্ন কিছু কন্টেন্ট নিয়ে হাজির হয়। তাই প্রত্যেক দিন আমাদের সাথে থাকুন।



ধন্যবাদ সবাইকে।

Leave a Comment